নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, তাঁকে স্মরণ করা এবং ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য কামনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, নামাজ শুধু নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কাজের সমষ্টি নয়। এর সঙ্গে নিয়ত, পবিত্রতা, মনোযোগ, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি আন্তরিক আনুগত্য জড়িত।
অনেক মুসলমান নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে, অন্যকে উৎসাহ দিতে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামিক বার্তা শেয়ার করতে নামাজ নিয়ে উক্তি, কুরআনের আয়াত, হাদিস, স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন খোঁজেন।
এই লেখায় নামাজ সম্পর্কে কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত, হাদিসের রেফারেন্স, ৬০টি মৌলিক অনুপ্রেরণামূলক উক্তি, ২০টি ছোট ক্যাপশন এবং ৫টি ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ কথা: নিচে কুরআনের আয়াতের অর্থ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এগুলো পূর্ণাঙ্গ তাফসির নয়। আর মৌলিক উক্তিগুলো কুরআন বা হাদিসের সরাসরি উদ্ধৃতি নয়।
কুরআনে বিভিন্ন স্থানে নামাজ প্রতিষ্ঠা, আল্লাহকে স্মরণ করা এবং ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ এসেছে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৩
এই আয়াতে নামাজ প্রতিষ্ঠা, জাকাত প্রদান এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করার নির্দেশ রয়েছে।
সূত্র: সূরা আল-বাকারা ২:৪৩
সূরা ত্বহা, আয়াত ১৪
আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁকে স্মরণ করার জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: সূরা ত্বহা ২০:১৪
সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫
এই আয়াতে বলা হয়েছে, নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সূরা আল-আনকাবুত ২৯:৪৫
সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩
এই আয়াতে মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে নামাজ ফরজ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র: সূরা আন-নিসা ৪:১০৩
সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১–২
এই আয়াতগুলোতে সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে নামাজে বিনয়ী ও মনোযোগী থাকার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: সূরা আল-মুমিনুন ২৩:১–২
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩
এই আয়াতে মুমিনদের ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: সূরা আল-বাকারা ২:১৫৩
সূরা ত্বহা, আয়াত ১৩২
এই আয়াতে পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দেওয়া এবং নিজেও তাতে অবিচল থাকার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: সূরা ত্বহা ২০:১৩২
নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে নামাজ প্রতিষ্ঠা অন্যতম।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৮।
রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে এমন একটি নদীর উপমা দিয়েছেন, যেখানে কেউ প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করলে তার শরীরে ময়লা অবশিষ্ট থাকে না।
হাদিসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে গুনাহ মোচনের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২৮।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন, জামাতে নামাজ একাকী নামাজের তুলনায় সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৫।
একটি সহিহ হাদিসে ফজর ও আসরের নামাজ আদায়কারীর জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭৪।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের তাঁর নামাজ আদায়ের পদ্ধতি অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩১।
দ্রষ্টব্য: হাদিসগুলোর বক্তব্য এখানে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রসঙ্গ ও অনুবাদের জন্য মূল সূত্র পড়া উত্তম।
নিচের কথাগুলো নামাজের গুরুত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মৌলিকভাবে লেখা হয়েছে। এগুলো কুরআনের আয়াত বা হাদিস নয়।
১. “নামাজ মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর স্মরণকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি মাধ্যম।”
২. “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য সময় রাখা ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতার প্রকাশ।”
৩. “নামাজের গুরুত্ব বোঝার পাশাপাশি তা নিয়মিত আদায়ের চেষ্টা করাও জরুরি।”
৪. “নামাজ শুধু অভ্যাস নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ইবাদত।”
৫. “দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নামাজের সময়ের কথা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।”
৬. “নামাজের প্রস্তুতিতে পবিত্রতা ও মনোযোগের গুরুত্ব রয়েছে।”
৭. “ইবাদতের সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক আচরণে নয়, আন্তরিকতাতেও।”
৮. “নামাজের সময় আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর বিষয়টি মনে রাখুন।”
৯. “নামাজ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
১০. “নামাজকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন।”
১১. “ফজর থেকে এশা—প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজের নিজস্ব নির্ধারিত সময় রয়েছে।”
১২. “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা ইবাদতের প্রস্তুতির অংশ।”
১৩. “ব্যস্ত দিনের মধ্যেও নামাজের জন্য সময় পরিকল্পনা করা যায়।”
১৪. “নামাজের সময় হলে অপ্রয়োজনীয় দেরি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।”
১৫. “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানের দৈনন্দিন ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
১৬. “নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য নিজের দৈনন্দিন কাজের সময়সূচি বিবেচনা করুন।”
১৭. “নামাজের প্রতি যত্নশীল হতে হলে ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা দরকার।”
১৮. “নামাজের সময়কে সম্মান করা ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব প্রকাশ করে।”
১৯. “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অভ্যাস গড়তে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
২০. “প্রতিটি ওয়াক্ত আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসার একটি নির্ধারিত সুযোগ।”
২১. “ফজরের নামাজ দিয়ে দিনের শুরু করা একজন মুসলমানের জন্য সুন্দর অভ্যাস।”
২২. “ফজরের সময় ঘুম থেকে ওঠার জন্য আগের রাতের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”
২৩. “ভোরের নীরবতায় ফজরের নামাজ আদায়ের অনুভূতি অনেকের কাছে বিশেষ।”
২৪. “ফজরের নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে সহিহ হাদিসে বিশেষ আলোচনা রয়েছে।”
২৫. “ফজরের সময়ের প্রতি যত্নশীল হতে ঘুমের রুটিনও বিবেচনা করুন।”
২৬. “দিনের শুরুতে আল্লাহকে স্মরণ করা মুমিনের জন্য মূল্যবান।”
২৭. “ফজরের নামাজের প্রস্তুতি আগের রাত থেকেই শুরু হতে পারে।”
২৮. “ভোরের আলো ফোটার আগে নামাজের সময় সম্পর্কে সচেতন থাকুন।”
২৯. “ফজরের নামাজের জন্য সময়মতো জাগতে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিন।”
৩০. “ফজরের নামাজ আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের দৈনন্দিন প্রকাশের একটি অংশ।”
৩১. “সিজদা নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে বান্দা আল্লাহর সামনে বিনয় প্রকাশ করেন।”
৩২. “সিজদার মাধ্যমে মুসলমান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।”
৩৩. “নামাজে সিজদা করার সময় মনোযোগ ও বিনয় বজায় রাখার চেষ্টা করুন।”
৩৪. “সিজদা আমাদের ইবাদতে বিনয়ের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।”
৩৫. “সিজদার তাৎপর্য বুঝে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা সুন্দর অভ্যাস।”
৩৬. “আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।”
৩৭. “সিজদা শুধু শারীরিক ভঙ্গি নয়; এটি ইবাদতের অংশ।”
৩৮. “নামাজের প্রতিটি রুকন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি।”
৩৯. “সিজদায় মনোযোগী থাকার চেষ্টা নামাজে একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।”
৪০. “সিজদার মাধ্যমে বান্দা তাঁর প্রতিপালকের সামনে নিজেকে সমর্পণ করেন।”
৪১. “তাহাজ্জুদ রাতের নফল ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ।”
৪২. “রাতের নীরবতায় আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় রাখা সুন্দর আমল।”
৪৩. “তাহাজ্জুদের জন্য নিজের স্বাস্থ্য ও ঘুমের প্রয়োজন বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিন।”
৪৪. “নফল ইবাদতে আন্তরিকতা ও নিয়মিততার গুরুত্ব রয়েছে।”
৪৫. “তাহাজ্জুদ সম্পর্কে সহিহ হাদিস থেকে সঠিক নিয়ম জানা উত্তম।”
৪৬. “রাতের নামাজ আল্লাহর স্মরণে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার একটি সুযোগ।”
৪৭. “তাহাজ্জুদের সময় দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া যায়।”
৪৮. “তাহাজ্জুদ ফরজ নামাজের বিকল্প নয়; এটি অতিরিক্ত নফল ইবাদত।”
৪৯. “রাতের ইবাদতের জন্য বাস্তবসম্মত সময় নির্ধারণ করুন।”
৫০. “তাহাজ্জুদের সৌন্দর্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করার প্রচেষ্টায়।”
৫১. “নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে মন সরানোর চেষ্টা করা যায়।”
৫২. “নামাজের অর্থ ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানা ইবাদতকে আরও অর্থপূর্ণ করতে পারে।”
৫৩. “আল্লাহর স্মরণ শুধু নামাজে সীমাবদ্ধ নয়; দৈনন্দিন আচরণেও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ।”
৫৪. “নামাজের শিক্ষা জীবনের আচরণে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করুন।”
৫৫. “ইবাদতের সঙ্গে সততা ও অন্যের অধিকার রক্ষার গুরুত্বও মনে রাখুন।”
৫৬. “নামাজে মনোযোগের সমস্যা হলে ধীরে ধীরে নিজের অভ্যাস উন্নত করার চেষ্টা করুন।”
৫৭. “নামাজ সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন।”
৫৮. “অন্যকে নামাজের কথা বলার সময় নম্রতা ও সম্মান বজায় রাখুন।”
৫৯. “নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি নিজের আচরণের দিকেও নজর দিন।”
৬০. “আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে আন্তরিকভাবে ইবাদত করা মুমিনের লক্ষ্য।”
নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত।
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
কুরআনে নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ রয়েছে।
তাই নামাজ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং যথাসময়ে আদায়ের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
ফজরের নামাজ দিয়ে দিনের শুরু করার অনুভূতি অনেকের কাছে বিশেষ।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা সব সময় সহজ হয় না। তাই আগের রাত থেকে প্রস্তুতি নেওয়া, সময়মতো ঘুমানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা সহায়ক হতে পারে।
আল্লাহ আমাদের ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায়ের তাওফিক দিন।
দৈনন্দিন জীবনে পড়াশোনা, কাজ, পরিবার এবং নানা দায়িত্ব থাকে।
এই ব্যস্ততার মধ্যেও নামাজের নির্ধারিত সময়ের কথা মনে রাখা একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
কাজের সময়সূচি পরিকল্পনা করার সময় নামাজের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে।
আল্লাহ আমাদের ইবাদতে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতা দান করুন।
সিজদা নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন।
এটি আল্লাহর সামনে বান্দার বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের অংশ।
নামাজ আদায়ের সময় শুধু বাহ্যিক নিয়ম নয়, মনোযোগ ও আন্তরিকতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আল্লাহ আমাদের নামাজ কবুল করুন। আমিন।
তাহাজ্জুদ রাতের নফল ইবাদতের একটি সুন্দর সুযোগ।
দিনের ব্যস্ততার বাইরে রাতে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ এবং দোয়ার জন্য সময় রাখা যায়।
তবে ফরজ নামাজের গুরুত্ব সর্বাগ্রে মনে রাখতে হবে।
আল্লাহ আমাদের ফরজ ও নফল ইবাদত সঠিকভাবে আদায়ের তাওফিক দিন।
১. নামাজের প্রতি যত্নশীল হই।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
৩. আল্লাহর স্মরণে।
৪. নামাজ প্রতিষ্ঠা করি।
৫. ফজরের সুন্দর সকাল।
৬. ইবাদতে আন্তরিকতা।
৭. নামাজ ও আত্মশুদ্ধি।
৮. সিজদায় বিনয়।
৯. নামাজের গুরুত্ব।
১০. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
১১. তাহাজ্জুদের সময়।
১২. নামাজে মনোযোগ।
১৩. ইবাদতের পথে।
১৪. ফজরের প্রস্তুতি।
১৫. নামাজের সময়।
১৬. আল্লাহর প্রতি আনুগত্য।
১৭. সঠিকভাবে নামাজ শিখি।
১৮. ইবাদতে ধারাবাহিকতা।
১৯. নামাজ ও নৈতিকতা।
২০. আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।
ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ রয়েছে।
| নামাজ | সাধারণ সময়সীমা |
|---|---|
| ফজর | সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগে পর্যন্ত |
| জোহর | সূর্য মধ্যাকাশ অতিক্রম করার পর থেকে আসরের সময় শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত |
| আসর | আসরের সময় শুরু হওয়া থেকে সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত |
| মাগরিব | সূর্যাস্তের পর থেকে এশার সময় শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত |
| এশা | সন্ধ্যার লালিমা বা শফক বিলীন হওয়ার পর থেকে রাতের নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত |
দ্রষ্টব্য: আসর ও এশার সময় নির্ধারণসহ কিছু বিষয়ে ফিকহি মতভেদ রয়েছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য নামাজের সময়সূচি ও অনুসৃত ফিকহি নির্দেশনা অনুযায়ী সময় জেনে নেওয়া উচিত।
নামাজে মনোযোগ বা খুশু অর্জন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
কিছু অভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ওজু, পোশাক ও নামাজের স্থান প্রস্তুত রাখুন।
সম্ভব হলে নামাজের সময় মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে পারেন।
নামাজে পাঠ করা আয়াত ও দোয়ার অর্থ সম্পর্কে জানা মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
নামাজের রুকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিন।
নামাজের নিয়ম সম্পর্কে সংশয় থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেম বা ইসলামি শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিন।
“নামাজ মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর স্মরণকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি মাধ্যম।”
সূরা ত্বহা ২০:১৪-তে আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ রয়েছে।
ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা।
“ফজরের সুন্দর সকাল।”
না। তাহাজ্জুদ নফল ইবাদত। এটি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বিকল্প নয়।
নামাজের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমানো এবং পাঠ করা আয়াত ও দোয়ার অর্থ শেখার চেষ্টা করতে পারেন।
“আল্লাহ আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায়ের তাওফিক দিন। আমিন।”
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে নামাজের গুরুত্ব, ফজিলত এবং আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে।
নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের একটি প্রধান ধর্মীয় দায়িত্ব।
কুরআনে নামাজ প্রতিষ্ঠা, নির্ধারিত সময়ে আদায় এবং ইবাদতে বিনয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহিহ হাদিসেও নামাজের ফজিলত ও আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে।
এই লেখায় নামাজ নিয়ে উক্তি, কুরআনের আয়াত, হাদিস, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ফজর, সিজদা, তাহাজ্জুদ এবং নামাজে মনোযোগ নিয়ে ৬০টি মৌলিক বাণী, ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ছোট ইসলামিক ক্যাপশন তুলে ধরা হয়েছে।
আশা করি, লেখাটি নামাজ সম্পর্কে জানতে এবং ইসলামিক বার্তা শেয়ার করতে সহায়ক হবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার এবং ইবাদতে আন্তরিক থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
পাপ নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো পাপ নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় পাপ নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
চেয়ার নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো চেয়ার নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় চেয়ার নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
আপন পর নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো আপন পর নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় আপন পর নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
শালীনতা নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো শালীনতা নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় শালীনতা নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
প্রোফাইল পিক ক্যাপশন– প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো প্রোফাইল পিক ক্যাপশন ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় প্রোফাইল পিক ক্যাপশন শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
রোজা নিয়ে কিছু কথা – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো রোজা নিয়ে কিছু কথা ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।
১। হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হল, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার-(আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৩)
২। (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং শক্তিহীনদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং যে ব্যক্তি নিজের খুশীতে সৎ কাজ করতে ইচ্ছুক, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ।- (আল – বাকারাহঃ ১৮৪)
৩। সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ।- (আল বাকারাহঃ ১৮৭)
৪। আল্লাহ বলেন, ‘‘রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর’’— (আল-বাকারাহ : ১৮৭)
৫। আর যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে ‘যিহার’ করে অতঃপর তারা যা বলেছে তা থেকে ফিরে আসে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করবে। এর মাধ্যমে তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।কিন্তু যে তা পাবে না, সে লাগাতার দু’মাস সিয়াম পালন করবে, একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে।— (আল – মুজাদালাঃ ৩-৪)
৬। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে কুরায়শগণ ‘আশূরার দিন সওম পালন করত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও পরে এ সওম পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমাযানের সিয়াম ফরজ হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার ইচ্ছা ‘আশূরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সওম পালন করবে না।— (হাদিস নং – ১৮৯৩)
৭। ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন। পরে যখন রমাযানের সিয়াম ফরজ হল তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘আবদুল্লাহ (রহ.) এ সিয়াম পালন করতেন না, তবে মাসের যে দিনগুলোতে সাধারণত সিয়াম পালন করতেন, তার সাথে মিল হলে করতেন।— (হাদিস নং – ১৮৯২)
৮। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ।— (হাদিস নং – ১৮৯৪)
৯। সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।— (হাদিস নং – ১৮৯৬)
১০। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমাযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।— (হাদিস নং – ১৮৯৮)
১১। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়।— (হাদিস নং – ১৮৯৯)
১২। ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন সওম রাখবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফ্তার করবে। আর যদি আকাশ মেঘলা থাকে তবে সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে।— (হাদিস নং – ১৯০০)
১৩। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমাযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে।— (হাদিস নং – ১৯০১)
১৪। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমাযানে জিবরাঈল (আঃ) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমাযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন শোনাতেন। জিবরাঈল যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।— (হাদিস নং – ১৯০১)
১৫। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।— (হাদিস নং – ১৯০৩)
১৬। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। ‘— (হাদিস নং – ১৯০৪)
১৭। ‘আলকামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে চলতে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম, তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। সওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।— (হাদিস নং – ১৯০৫)
১৮। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সওম শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।— (হাদিস নং – ১৯০৭)
২০। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমাযানের একদিন কিংবা দু’দিন আগে হতে সওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সওম পালন করতে পারবে।— (হাদিস নং – ১৯১৪)
২১। ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) রাতে আযান দিতেন। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। কেননা ফজর না হওয়া পর্যন্ত সে আযান দেয় না।— (হাদিস নং – ১৯১৮)
২২। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ।— (হাদিস নং – ১৯২১)
২৩। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটানা সওম পালন করতে থাকলে লোকেরাও একটানা সওম পালন করতে শুরু করে। এ কাজ তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল, আপনি যে এক নাগাড়ে সওম পালন করছেন? তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের মত নই। আমাকে খাওয়ানো হয় ও পান করানো হয়।— (হাদিস নং – ১৯২২)
২৪। সালমা ইবনু আকওয়া (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আশূরার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়।— (হাদিস নং – ১৯২৪)
২৫। আবুল ইয়ামান (রহ.) মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এবং উম্মু সালামাহ (রাযি.) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনূবী অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সওম পালন করতেন।— (হাদিস নং – ১৯২৫-১৯২৬)
২৬। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমের অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তবে তিনি তার প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চেয়ে অধিক সক্ষম ছিলেন।— (হাদিস নং – ১৯২৭)
২৭। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সওম পালনকারী ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।— (হাদিস নং – ১৯৩৩)
২৮। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল যে, সে তো জ্বলে গেছে। তিনি বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? লোকটি বলল, রমাযানে আমি স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে (খেজুর ভর্তি) ঝুড়ি এল, যাকে ‘আরাক (১৫ সা‘ পরিমাণ) বলা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায়? লোকটি বলল, আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ গুলো সদাকাহ করে দাও।— (হাদিস নং – ১৯৩৫)
২৯।‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘আশূরার দিনে সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হলো তখন যার ইচ্ছা (‘আশূরার) সওম পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।— হাদিস নং – ২০০১
৩০। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে।— (হাদিস নং – ১৯৫২)
৩১। উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক হতে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক হতে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে।— হাদিস নং – ১৯৫৪
৩২। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে [1], ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।— হাদিস নং – ১৯৫৭
৩৩। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা এবং দু‘রাক‘আত সালাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।— হাদিস নং – ১৯৮১
৩৪। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ (দিনের) সওম ও দু’ (প্রকারের) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর (দিনের) সওম এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা (পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়) হতে।— হাদিস নং – ১৯৯৩
৩৫। আয়িশাহ্ (রাযি.) ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, যাঁর নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সওম পালন করার অনুমতি দেয়া হয়নি।
— হাদিস নং – ১৯৯৭
৩৬। ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একই সঙ্গে হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালনের সুযোগ লাভ করল সে ‘আরাফাত দিবস পর্যন্ত সওম পালন করবে। সে যদি কুরবানী না করতে পারে এবং সওমও পালন না করে থাকে তবে মিনার দিনগুলোতে সওম পালন করবে।
— হাদিস নং – ১৯৯৯
৩৭। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, হামযাহ ইবনু ‘আমর আসলামী (রাঃ) অধিক সওম পালনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি সফরেও কি সওম পালন করতে পারি? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি সওম পালন করতে পার, আবার ইচ্ছা করলে নাও করতে পার।
— (হাদিস নং – ১৯৪৩)
উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় রোজা নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
আত্মশুদ্ধি নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো আত্মশুদ্ধি নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।


উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় আত্মশুদ্ধি নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
চাওয়া পাওয়া নিয়ে উক্তি – প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো চাওয়া পাওয়া নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।


উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় চাওয়া পাওয়া নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
মেধা নিয়ে উক্তি– প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো মেধা নিয়ে উক্তি ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।


উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় মেধা নিয়ে উক্তি শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ