Archive

Category Archives for "Uncategorized"

খোলা চুল নিয়ে ক্যাপশন

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো খোলা চুল নিয়ে ক্যাপশন ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।

 

খোলা চুল নিয়ে ক্যাপশন

 

হারানোর জন্য তোমার খোলা চুল এবং চোখের কাজল যথেষ্ট

 

কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে
রেশমি কালো চুলের ঢেউ মুগ্ধ করে আমাকে

 

“খুলে দাও তুমি এই চুলের বাঁধন
অবাধ্য হয়ে না হয় সে বাতাসেই উড়ুক “।

 

 

খোলা চুল তুমি বলে দাও
কেনো মুগ্ধ না হবে কেউ তোমার মায়ায়”।

 

 

“ইচ্ছে হয় হাড়িয়ে যাই
ওই খোলা চুলের গভীরতায়”।

 

আমি আমার মুখমন্ডলে সতেজ বাতাসের অনুভূতি এবং আমার চুল দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়াকে ভালোবাসি।
– ইভেল নিভেল

 

চুল হলো মেয়েদের সবচেয়ে দামী অলঙ্কার।
– মার্টিন লুথার

 

উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয়  খোলা চুল নিয়ে ক্যাপশন, বাণী শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ

কাদানো নিয়ে উক্তি

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো কাদানো নিয়ে উক্তি  ও বানী। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।

কাদানো নিয়ে উক্তি  এস এম এস

বড় অবেলায় পেলাম তোমায়, কেন এখনি
যাবে হারিয়ে? কি করে বলোরবো একলা?
ফিরে দেখো আছি দাঁড়িয়ে।কেন হঠাৎ
তুমি এলে? কেন নয় তবে পুরোটা জুড়ে?
আজ পেয়েও হারানো যায়না মানা
বাঁচার মানে টার য়ে যায় অজানা।

 

আমি চাইলেই তোমার জীবন কে দুখের
সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারতাম শুধু তোমাকে
ভালোবাসি বলে সেটা পারিনি কিন্তু তুমি
পেরেছো কারণ তুমি তো আমাকে কখনো ভালোবাসনি

 

জীবন থেকে যদি ফেলে আসা দিন গুলো মুছে
ফেলা যেতো তাহলে তোমার জন্যে আর
কস্ট পেতে হতো না আমি তোমাকে
ছারাই সুখী হতে পারতাম

 

 

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট
পাওয়ার জন্য জন্ম নেয়। টাকা পয়সার
কষ্টনা, মানসিক কষ্ট।।সময়ের সাথে সাথে
কাউকে ধরে রাখা যায়না।কেউ থাকেনা, কথা রাখেনি।

 

পাগলি তুই ফিরে আয়, আজো আছি তোর
অপেক্ষায়।নিরবে দাঁড়িয়ে ঐ দূরে খোঁজে
ফিরি শুধুই তোকে।দিশাহারা আজ এই
মাতাল হাওয়া, বইছে মোর বুকে।তবু তোর
জন্য এ হৃদয়, অষ্ট প্রদীপ জ্বেলে রেখেছে।
ফিরে তুইনা এলে, অষ্ট প্রদীপ যে যাবে নিভে।

 

এক ফোটা চোখের জল ঝরার চেয়ে এক
ফোটা রক্ত ঝরা অনেক ভালো।কারন, এক
ফোটা রক্ত বের হতে হালকা ব্যথা লাগে
আর এক ফোটা চোখের জল পুরো
হৃদয় ছিড়ে বের হয়।

 

স্বপ্ন ছিলো রাশি রাশি মিত্যা ভালোবাসা।
তাই তো জানি তোমার জন্য চোখের জলে
বাসা এতো ভালোবাসি তোরে বাসলিনা কেন বল।

মেঘ নিয়ে ক্যাপশন – Megh Niye Caption

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের জন্য শেয়ার করবো মেঘ নিয়ে ক্যাপশন। আশাকরছি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষের সাথে। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ আপনাকে। চলুন শুরু করি।

Megh Niye Caption

  • আকাশ টা কিন্তু সব সময় আর মেঘলা থাকে না, কারণ কোন এক সময় রৌদ্রোজ্জ্বল অনিবার্য ।

 

  • ও মেঘ উড়ে যা না, প্রিয়তমার আকাশে
    তারপর স্নিগ্ধ বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড় তার আলতা পায়ে।

 

  • ঘন কালচে মেঘেকে দেখে ভয়ের কিছু নেই, একটু পরেই তা শান্তির বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরে৷

 

  • কিছু মেঘ গুমোট করুক আকাশের মাঝেই
    সব মেঘেদের মাটির বুকে ঝড়ে পড়তে নেই৷

 

  • অভিমানী মেঘ, টুকরো আবেগ,
    বিকেলবেলায় আঁকছি তোমায়
    গল্পগুলো সাথী হলো
    হলদে স্মৃতির অবাধ্যতায়।

 

  • আকাশ এতো মেঘলা, যেও নাকো একলা

 

  • এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন
    কাছে যাবো, কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রণ!

 

  • একান্নটি খন্ড যখন জ্যেৎস্না দিলো জুড়ে
    একফালি মেঘ খবর দিয়ে গেলো কোথায় উড়ে
    যে সতীরে খুঁজলি রে মন সারা দিবস জুড়ে
    সে তোর বুকেতেই রাখলো মাথা নিবিড় আঁধারে৷

 

  • আঁচলে মেঘ নিয়ে বসে থাকা অজ্ঞাত আকাশ
    আমার ছাদের টব জল ভুলেছে বহুদিন
    তোমার স্নিগ্ধতা বুঝি পায়নি অবকাশ।

 

  • ক্লান্ত পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়াই ছাদের রেলিং এ
    উড়ে যায় মেঘ, ছোঁয়না আমায়
    ঝড়ে পরে না বৃষ্টি হয়েও, আমাতে বোধহয় মেঘ বৃষ্টিরও অরুচি।

 

  • দূর দিগন্তে চেয়ে আছি
    নীল আকাশের পানে
    মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ো
    আমার এই ক্লান্ত গায়ে।

 

  • শান্তির পরশ নিয়ে আসে যে বৃষ্টির সৃষ্টি করে যে মেঘ
    সেই একই মেঘই কি অমন ভয়ানক গর্জন করে!

 

  • তোমার অপেক্ষাতে চিলেকোঠায় মেঘ জমিয়েছি
    একদিন এসে আঁচল পেতে দিও, তুলোর মেঘ বিলিয়ে দেব তোমায়।

 

  • চিন্তার কালো মেঘ যতই ঘনিয়ে আসবে মনের আকাশ জুড়ে
    বুঝে নিও, সেই বৃষ্টির পরশ নেই বেশি দূরে।

 

  •  চেনা গলিপথে হয় না দেখা আর
    মেঘের এখন অন্য পাড়ায় ঘর
    চাতক আজও বৃষ্টি ভালোবাসে
    রোদের আঁচে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় স্মৃতির অবসর

 

  • দূর দিগন্তে চেয়ে আছি
    নীল আকাশের পানে
    মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ো
    আমার এই ক্লান্ত গায়ে।

 

  • অল্প মেঘ এনে দিও,
    বৃষ্টির হাতে ধরা পরার আগে
    অল্প ভালোবাসা রেখে দিও
    তোমার হাত থেকে হারানোর আগে।

 

  • আকাশে মেঘ করলে আমরা বুঝতে পারি বৃষ্টি আসবে,কিন্তু অনেক সময় মেঘ তেমন দেখা না গেলেও বৃষ্টি এসে যায়, তাই আমাদের সবমসময়ই ছাতা নিয়ে বেরোনো উচিত। ঠিক এমনি আমাদের জীবন, কখন যে কীভাবে জীবনে দুঃখের বৃষ্টি এসে পড়ে আমরা জানতে পারি না। তাই সবসময়েই আমাদের মনটাকে একটু শক্ত রাখা উচিত আর সহজে নিজেকে আবেগে ভাসান ঠিক না।

 

  • ঝাপসা কুয়াশার চাদরে ঢাকা কিছু রাত্রিদিন
    অজান্তেই মন খারাপের সুর, মেঘও সঙ্গীহীন।

 

  • তুমি ভাবছ মেঘ করেছে, বৃষ্টি পড়বে অনেকক্ষণ
    আসলে তো মেঘ করেনি, মন খারাপের বিজ্ঞাপন। -( রুদ্র গোস্বামী)

 

  • মাঝে মাঝে আমার মন খারাপের মেঘলা আকাশে
    চাঁদের আলোর মতো একটু ভালোবাসা নিয়ে আসতে কি পারো না!

 

উপরে আপনাদের জন্য কিছু জনপ্রিয় মেঘ নিয়ে ক্যাপশন – Megh Niye Caption  শেয়ার করলাম। সামনে অন্য কোনো বিষয়ে উক্তি শেয়ার করবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ

Maa Shayari Bengali

আজকে আমরা আপনাদের জন্যMaa Shayari Bengali  নিয়ে কিছু Shayari  শেয়ার করবো আশাকরি ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে আপনার কাছের মানুষদেরে সাথে শেয়ার করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।

Maa shayari Bengali Text

 

মায়ের গায়ে একটা গন্ধ থাকে ,ঘামে ভেজা
হোক কিংবা কোনো সুগন্ধির হোক ;
সুনির্দিষ্ট একটা ঘ্রাণ।
শুধু সন্তানরাই সে গন্ধ পায়।”

 

 

“ছেলেবেলায় আমায় যখন গান গেয়ে মা ঘুম পারতো , মায়ের দুটি চোখের পাতা জলে তখন কে ভেজাতো ?
কি কারণে কাঁদে যে মা, বুঝিনিতো !

 

 

“মায়ের স্নেহ, মায়ের ভালোবাসা, মায়ের আশীর্বাদই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, জ্ঞানে বা অজ্ঞানে কখনো যদি তাকে অবহেলা করে থাকো, তবুও ক্ষমাসুন্দর মা ই এ জীবনে সবচেয়ে আপন।”

 

Read Also –

Happy Mothers Day SMS Bangla

 

 

“একটা আঙুলের ছোয়ায় সব বাধা পার
এক আঁচলের পালিশ সারা পৃথিবী পরিষ্কার
খেয়েছিস? এত দেরি কেন হল?
খবর কে নেবে আর ?”

 

 

“মায়ের হাতের শুকনো মুড়ি
হার মানে পোলাও লুচি
তোমার পায়ের ধুলো মাগো
ধুলো নয়তো হীরের কুচি “

 

 

“মা গো তোমার ডাকে দেব সারা
তাইতো আমি জাগি
মাগো আমি জানি তুমি তন্দ্রা হারা
জাগো আমার লাগি
তাইতো আমি জাগি। “

 

 

উল্টো ঘুড়ি – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

এতো সহজেই ভালোবেসে ফেলি কেন!
বুঝি না আমার রক্তে কি আছে নেশা-

দেবদারু-চুলে উদাসী বাতাস মেখে
স্বপ্নের চোখে অনিদ্রা লিখি আমি,
কোন বেদনার
বেনোজলে ভাসি সারাটি স্নিগ্ধ রাত?

 

সহজেই আমি ভালোবেসে ফেলি,
সহজে ভুলিনা কিছু-
না-বলা কথায় তন্ত্রে তনুতে পুড়ি,
যেন লাল ঘুড়ি একটু বাতাস পেয়ে
উড়াই নিজেকে আকাশের পাশাপাশি।

 

সহজে যদিও ভালোবেসে ফেলি
সহজে থাকি না কাছে,
পাছে বাঁধা পড়ে যাই।
বিস্মিত তুমি যতোবার টানো বন্ধন-
সুতো ধ’রে,
আমি শুধু যাই দূরে।

 

আমি দূরে যাই-
স্বপ্নের চোখে তুমি মেখে নাও ব্যথা-
চন্দন চুয়া,
সারাটি রাত্রি ভাসো উদাসীন
বেদনার বেনোজলে…

এতো সহজেই ভালোবেসে ফ্যালো কেন?

আমি ফিরোজা, একটি ভারতীয় মেয়ে – সুবোধ সরকার

হিন্দু ভারত, জৈন ভারত, বৌদ্ধ ভারত, খ্রিস্টান ভারত,
এতগুলো ভারতের মাঝে দাঁড়িয়ে
আমি ফিরোজা একটি ভারতীয় মেয়ে

 

আপনারা বলতে পারেন, আমি কি দোষ করেছি ?
পৃথিবীর যে কোন দেশের
যে কোন একটি মেয়ের মতো আমি একজনকে
ভালবেসেছিলাম ।
প্রথম যেদিন ওর চোখে চোখ পড়েছিল আমার
আমি জানতাম না ও কে
বিকেল বেলার কলেজ ক্যাম্পাসে যে আলো এসে পড়েছিল
ওর চুলে, তার কোথাও লেখা ছিল ওর ধর্ম ।

 

হিন্দু ভারত, জৈন ভারত, বৌদ্ধ ভারত, খ্রিস্টান ভারত
আপনারা বলতে পারেন আমি কি দোষ করেছি ?

আমি যেদিন হাতে মোমবাতি নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম
আমি যেদিন বলে ফেললাম, আমি শরিয়ৎ মানি না
আমি যেদিন বুঝিয়ে দিলাম ভারতবর্ষের মাটিকে
মা বলে জানি, ভারতবর্ষের আকাশকে আকাশ
সেদিন থেকেই শুরু হল অত্যাচার ।

 

হিন্দু ভারত, জৈন ভারত, বৌদ্ধ ভারত, খ্রিস্টান ভারত
আপনারা বলতে পারেন, আমি কি দোষ করেছি
ছেলেটাতো আপনাদের
সে কি দোষ করল ?
আমাকে ভালবাসাই তার দোষ ?

 

ছেলেটার বাড়িতে আপনারা ঢিল ছুঁড়লেন
পার্সেল করে ছেঁড়া চটি পাঠালেন
ওকে হাতে মেরে, ভাতে মেরে
বাড়ির দেয়ালে বড় বড় করে লিখে দিলেন,
‘এসব চলবে না।’

 

লজ্জা করে না আপনাদের, আপনারা এগিয়ে থাকা মানুষ
এম এ পাশ, বি এ পাশ, ডাক্তার, এঞ্জিনিয়র
আমলা, মাস্টার, আপনারাই গণতন্ত্র নিয়ে ভাষণ দেন
আর প্রয়োজন মতো
গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরেন ।
ধিক আপনাদের !

 

আমি কি ছোটবেলায় ভোরের আলোয় সরস্বতী পুজোর ফল
. কাটিনি ?
আমি কি স্কুলের বারান্দায় বসে
রাত জেগে আলপনা দিইনি ?
আমি কি পাশের বাড়ির হিন্দু বাবার জন্য রক্ত দিইনি ?
ওদের বাড়ির উঠোনে বসে ওদের ছেলেদের অ আ ক খ
. শেখাইনি ?
আমি আরবি শিখিনি, ফারসি শিখিনি, উর্দু শিখিনি
বাংলাই আমার ভাষা, এই ভাষা আমার ভাত, আমার রুটি
আমার চোখের কাজল, আমার পায়ের ঘুঙুর ।
এই ভাষা আমার গোপন চিঠি, যার অক্ষরে অক্ষরে লেগে আছে
আমার চোখের জল ।

আমরা যেদিন বিয়ে করি
সেদিন কফিহাউস গিয়েছিলাম, ও সেদিন
আমাকে ঝোলা ভর্তি করে রবীন্দ্রনাথ কিনে দিয়েছিল
হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে কানে কানে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন
ফিরোজা, তুমি আমার মৃন্ময়ী, তুমি আমার লাবণ্য
তুমি আমার সুচরিতা ।

 

সেদিন রাত্রে কি হয়েছিল জানি না
কি ঘটেছিল ওদের বাড়িতে, কি ঘটেছিল ওদের পাড়ায়, কি
. করেছিল ওদের
বাবাকাকা – সেটা আজও আমি জানি না
কিন্তু তার পরের দিন ওকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি
ও কোথায় চলে গেল আমি জানতে পারিনি ।

 

এই আপনাদের ভারতবর্ষ ?
এই আমাদের ভারতবর্ষ ?

আমি একজন সাধারণ মেয়ে
অথচ বাড়িতে পাড়ায় অফিসে পুজোর প্যান্ডেলে
বিয়ে বাড়িতে অন্নপ্রাশনে এখনো আমাকে নিয়ে ফিসফাস
ডাক্তারের কাছে যাই – ফিসফাস
কলেজে ঢুকি – ফিসফাস
বাজারে যাই – ফিসফাস
যে হাউসিং –এ থাকি সেখানেও চলতে থাকে অবিরাম লুকোচুরি ।
ওটা লুকোচুরি নয়, ওটা ফিসফাস নয়
ওটা আপনাদের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক-একটা সুপ্ত গুজরাট ।
যদি আপনাদের হৃদয়
বড় না করেন
আকাশের দিকে আপনারা যদি না তাকান
এই পোড়া দেশে আরও, আরও, আরও
অনেকগুলো পোড়া গুজরাট তৈরি হবে ।

গান্ধারীকে চিঠি – প্রদীপ বালা

শ্রীচরণেষু,
আমাকে আপনি চিনবেন না । হয়তো বা চিনবেন ।
আপনার অনেক পরে আমার জন্ম । তবু
আরও দশজনের মতো আমিও আপনার কথা জানি
জানি আপনার দুঃসাহসিক পতিব্রতা স্ত্রী হয়ে ওঠার কথা
আপনার গুণধর ছেলেদের কথা… আরও যা যা
জানা প্রয়োজন মোটামুটি সবই জানি

 

একসময় আপনার কথা পড়তে পড়তে অভিভূত হয়ে গেছি
সে অনেককাল আগেকার কথা তারপর
ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে
অনেক ঝড় বয়ে গেছে আমার শরীর বেয়েও

 

আর আজ যে শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আছি
এই শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মেয়েদের
দুরবস্থার জন্য আপনাকেই দায়ী করতে ইচ্ছে করছে

 

সেদিন আপনার অন্ধ স্বামী দেখে নিজেও
চোখে কাপড় বেঁধে অন্ধ সেজে বসলেন
খুবই মহত্ততার পরিচয় দিয়েছেন আপনি
কিন্তু যে ভুলটা করেছেন তার মাশুল যে
সমস্ত ভাবীকাল জুড়ে আমাকে বইতে হচ্ছে
তার জবাব কে দেবে ?

 

আপনার একশো সন্তান । একটাকেও
মানুষ তৈরি করেননি, তাঁদের কোন অন্যায়ের
প্রতিবাদ করেননি মা হয়ে । দ্যুত সভায়
সর্বসমক্ষে দ্রৌপদীর বিবস্ত্রা হবার কথা
শুনেও কিছু বলেননি । আপনার স্বামী
অন্যায়ের পথে চলেছে জেনেও তাঁকে সেই পথ থেকে
নিরস্ত করেননি—
কীসের মহীয়সী আপনি ?
একজন নারী হয়েও নারীর সন্মান রক্ষা করলেন না
আমি বলব সে সন্মানহানি আপনারও হয়েছে !

আজ আপনার সেই ছেলেরা
সেই একশো ছেলে এখন
একশো কোটি ছাড়িয়ে গেছে
যেখানে সেখানে তাঁরা বোমাবাজি করছে
গুলি ছুঁড়ছে (আপনাদের সময়ের তীর ধনুকের আধুনিক সংস্করণ)
রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, দিনে-দুপুরে
রাতের আঁধারে শত শত দ্রৌপদীর বলাৎকার করছে

 

আর এই এতো কিছুর মাঝেও
আজও আপনি চোখে কাপড় বেঁধে থাকবেন ?
আপনি নয় রাজমাতা ছিলেন
বিপদের আঁচড় পাননি কোনদিনও
তাই সব কিছু সইতে পেরেছেন
মহান পতিব্রতা হতে পেরেছেন
কিন্তু আমি ? আমার মেয়েরা ? কতকাল
কতকাল সইতে হবে ?
কতকাল কাপড় বেঁধে থাকবো চোখে
আর অন্ধের অভিনয় করে যাবো ?

 

গান্ধারী দেবী
আপনার নামে আজও মেয়েরা
মাথায় হাত ঠেকিয়ে প্রণাম করে
আপনার আদর্শ নিয়ে বাঁচতে গিয়ে
পতিব্রতা হতে গিয়ে হাজার হাজার মেয়ে বৌ
বলি হয়ে গেছে যাদের হাতে
তাঁরা আর কেউ নয়
আপনারই নির্লজ্জ সন্তান

 

জানিনা সেই সময় আপনার অনুশোচনা
হত কিনা । রাত্রে কাঁদতেন কিনা ।
চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ত কিনা বেদনায়
জানি না তাও…
কিন্তু আমি কাঁদি
কাঁদতে তো আপনারাই শিখিয়েছেন
শিখিয়েছেন মুখ বুজে সহ্য করতেও
কিন্তু সব সহ্যের সীমা যেদিন ছাড়িয়ে যাবে
সেদিন প্রতিবাদের পথ একটাই খোলা থাকবে
কড়িকাঠ থেকে ঝুলে পড়ার প্রতিবাদ
গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরানোর প্রতিবাদ
গলায় কলসী বেঁধে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিবাদ…
তাও তো আপনারাই শিখিয়ে আসছেন
. যুগ যুগ ধরে…

 

জানি না এ চিঠি আপনার কাছে পৌঁছবে কিনা
নাকি মাঝপথে দুর্যোধন দুঃশাসনের মতো
লোকের হাতে পড়ে বিবস্ত্রা হয়ে যাবে কিনা অথবা
আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে কিনা
জানি না তাও ।

 

তবু লিখলাম কারণ প্রয়োজন পড়ে গেল
সেইসব মেয়েগুলোর কথা ভেবে যারা

আমার মতন আপনাকে আজও বিশ্বাস করে

যাইহোক ভালো থাকবেন ।
চিঠি পেলে অন্তত একবার পড়ে দেখবেন ।

ইতি—
ভারতবর্ষ

সর্বহারা অবিশ্বাসী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী, বেশ সেজেগুজে এসেছে
কিন্তু আমাদের সঙ্গে খেতে বসবে না
আজ তার নীলষষ্ঠী
যৌবন বয়েসে এই নিয়ে কত না চটুল রঙ্গ করতাম
এখন শুধু একটা পাতলা হাসি,
অন্যের বিশ্বাসে নাকি আঘাত দিতে নেই
আর এক বন্ধু, যে প্রথম আমায় ছাত্র রাজনীতিতে টেনেছিল
তার আঙুলে দেখি একটা নতুন পাথর-বসানো আংটি
আমার কুঞ্চিত ভুরু দেখে সে দুর্বল গলায় বলল
শরীরটা ভালো যাচ্ছে না,
তাই শাশুড়ি এটা পরতে বললেন, মুনস্টোন
না বলা যায় না
আমার মনে হল, এ যেন আমারই নিজস্ব পরাজয়!

 

শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকের বাড়ি, মাঝে মাঝে যাই তাঁর আলাপচারী শুনতে
এখনও কত কিছু শেখার আছে
আজই প্রথম দেখলাম, তাঁর দরজায় পেছন দিকে,
গণেশের মূর্তি আটকানো
প্রশ্ন করিনি, তিনি নিজেই জানালেন,

দক্ষিণ ভারত থেকে ছেলে এনেছে, কী দারুণ কাজ না?
সুন্দর মূর্তির স্থান শো-কেসের বদলে দরজার ওপরে কেন
বলিনি সে কথা, সেই ফক্কুড়ির বয়েস আর নেই
বয়েস হয়েছে তাই হেরে যাচ্ছি, অনবরত হেরে যাচ্ছি

অন্যের বিশ্বাসে আঘাত দিতে নেই, অন্যের বিশ্বাসে আঘাত দিতে নেই
চতুর্দিকে এত বিশ্বাস, দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে কত রকম বিশ্বাস
যে গেরুয়াবাদী ঠিক করেছে, পরধর্মের শিশুর রক্ত
গড়াবে মাটিতে, চাটবে কুকুরে
সেটাও তার দৃঢ় বিশ্বাস
ধর্মের যে ধ্বজাধারী মনে করে, মেয়েরা গান গাইলে গলার নলি
কেটে দেওয়া হবে

টেনিস খেলতে চাইলেও পরতে হবে বোরখা
সেটাও তার দৃঢ় বিশ্বাস
যে পেটে বোমা বেঁধে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে
যে পেশি ফুলিয়ে, দেঁতো হাসি হেসে
পদানত করতে চাইছে গোটা বিশ্বকে
এরা সবাই তো বিশ্বাসীর দল
সবাই বিশ্বাসী, বিশ্বাসী, বিশ্বাসী…

এক একবার ভাঙা গলায় বলতে ইচ্ছে করে
অবিশ্বাসীর দল জাগো
দুনিয়ার সর্বহারা অবিশ্বাসীরা এক হও!

যদি নির্বাসন দাও – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো ।
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ-
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো ।

ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত
এইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে প্রণাম
এখনো নদীর বুকে
মোচার খোলায় ঘুরে
লুঠেরা, ফেরারী ।

শহরে বন্দরে এত অগ্নি-বৃষ্টি
বৃষ্টিতে চিক্কণ তবু এক একটি অপরূপ ভোর,
বাজারে ক্রুরতা, গ্রামে রণহিংসা
বাতাবি লেবুর গাছে জোনাকির ঝিকমিক খেলা
বিশাল প্রাসাদে বসে কাপুরুষতার মেলা
বুলেট ও বিস্পোরণ
শঠ তঞ্চকের এত ছদ্মবেশ
রাত্রির শিশিরে কাঁপে ঘাস ফুল–
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো ।

 

কুয়াশার মধ্যে এক শিশু যায় ভোরের ইস্কুলে
নিথর দীঘির পারে বসে আছে বক
আমি কি ভুলেছি সব
স্মৃতি, তুমি এত প্রতারক ?
আমি কি দেখিনি কোন মন্থর বিকেলে
শিমুল তুলার ওড়াওড়ি ?

মোষের ঘাড়ের মতো পরিশ্রমী মানুষের পাশে
শিউলি ফুলের মতো বালিকার হাসি
নিইনি কি খেজুর রসের ঘ্রাণ
শুনিনি কি দুপুরে চিলের
তীক্ষ্ণ স্বর ?

বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো… ।

সমস্ত পাগল আমি – বিভাস রায় চৌধুরী

এই যে আমি মরতে চাই
মরতে চাই’ বলে
সহ্য করি ময়লা পশু
মায়াবী ম্যানহোলে

 

কখনও আমি শব্দ ভেঙে
মর্ম ছুঁতে যাইনি
চাইনি কিছু পাইনি কিছু
চাইনি, কিছু পাইনি।

 

এই যে আমি স্বপ্নকামী
জ্বরের ঠোঁটে বিষ।
বীর্যপাত, তরল চাঁদ
দেখছি ভাগ্যিস

 

কখনো আমি বমির ঝুঁকে
গলন প্রিয় মেম
রাত জেগেছি, সঙ্গী সাদা
বিদায়ী কনডম।

 

ঘুমাও পাখি, আমার হাতে
চমকপ্রদ পেন।
কাটছি লেখা, হাঁটছি সুখে
সঘন শ্যাম্পেন।

 

সব বুঝেছি, সব মুছেছি
বুঝলি খোকা খুকু!
খিদের দেশে ল্যাজ বেড়েছে।
ছন্দ, মানে কুকুর

 

তাই তার টুঁটি কামড়ে ধরে
হিংস্র হয়ে যাই।
একটা-দুটো ফুল এনেছে।
আমারই বনসাই

 

এই যে আমি বামন, তবু
বাল্য প্রেমে ভরা।
চাঁদ ধরতে পারিনি, তুমি
বকো বসুন্ধরা।

 

প্রভু আমার, প্রিয় আমার
পেছনে প্রিয় পাখি!
সমস্ত পাগল আমি
নগ্ন করে আঁকি………

1 2 3 7