দোয়া হলো বান্দার সঙ্গে তার রবের এক বিশেষ সম্পর্কের মাধ্যম। মানুষ যখন নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে, তখন সে তার প্রয়োজন, আশা, কষ্ট ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যায়। সুখের সময় যেমন দোয়া করা উচিত, তেমনি দুঃখ ও বিপদের সময়ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
দোয়া শুধু কিছু চাওয়ার নাম নয়। এর মাধ্যমে বান্দা নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে এবং আল্লাহর ক্ষমতা ও রহমতের ওপর নির্ভর করে। তাই দোয়া মানুষের হৃদয়ে আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
এই লেখায় থাকছে দোয়া নিয়ে ইসলামিক উক্তি, দোয়া কবুল হওয়া নিয়ে বাণী, বিপদের সময় দোয়ার কথা, রাতের দোয়া, মনের আশা নিয়ে দোয়া এবং ছোট ইসলামিক দোয়ার ক্যাপশন।
“দোয়া হলো এমন একটি আশ্রয়, যেখানে বান্দা নিজের দুর্বলতা নিয়ে তার সর্বশক্তিমান রবের কাছে ফিরে যায়।”
“মানুষের কাছে যা অসম্ভব, আল্লাহর কাছে তা অসম্ভব নয়—তাই আশা নিয়ে দোয়া করুন।”
“দোয়া করার সময় শুধু নিজের প্রয়োজনের দিকে নয়, আল্লাহর অসীম ক্ষমতার দিকেও তাকান।”
“যে হৃদয় আল্লাহর কাছে হাত তোলে, সে হৃদয় কখনো আশাহীন নয়।”
“দোয়া কখনো বৃথা যায় না; তাই উত্তর আসতে দেরি হলেও আল্লাহর কাছে চাওয়া বন্ধ করবেন না।”
“আপনার মুখের ভাষা থেমে গেলেও হৃদয়ের আকুতি আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।”
“দোয়া করুন—কারণ আপনি জানেন না কোন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ আপনার জীবনের একটি দরজা খুলে দেবেন।”
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
— সূরা গাফির, ৪০:৬০
এই আয়াত বান্দাকে আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য উৎসাহিত করে। আল্লাহর কাছে চাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই; বান্দা সরাসরি তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করতে পারে।
আল্লাহ আরও বলেন:
“আর আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে আহ্বান করে।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৬
দোয়া কবুলের বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। কোনো দোয়ার ফল সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান না হলেই তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
“দোয়ার উত্তর আপনার নির্ধারিত সময়ে নয়, আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত সময়ে আসে।”
“আপনি যে ফল চান, আল্লাহ হয়তো তার চেয়েও কল্যাণকর কিছু আপনার জন্য নির্ধারণ করেছেন।”
“দোয়া কবুলের অপেক্ষাও একজন মুমিনের ধৈর্যের পরীক্ষা হতে পারে।”
“দোয়ার ফল চোখে দেখতে দেরি হলেও আল্লাহর কাছে আপনার প্রার্থনা অজানা নয়।”
“চাওয়া আপনার কাজ; কখন, কীভাবে এবং কীভাবে কল্যাণ করবেন—সেটি আল্লাহর হিকমত।”
বিপদে পড়লে মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
“বিপদ যত কঠিন মনে হোক, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দরজা সবসময় খোলা।”
“কঠিন সময়ে মানুষের কাছে অভিযোগ করার আগে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে শিখুন।”
“বিপদের মুহূর্তে একটি আন্তরিক দোয়া হৃদয়ে নতুন সাহস জাগাতে পারে।”
“যে সমস্যার সমাধান আপনার হাতে নেই, সেটি আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে দোয়া করুন।”
“কষ্টের সময় দোয়া শুধু সাহায্য চাওয়া নয়; এটি আল্লাহর ওপর নির্ভরতার প্রকাশ।”
“মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কথাগুলোও আল্লাহর কাছে বলুন; তিনি আপনার অন্তরের অবস্থা জানেন।”
“আপনার স্বপ্ন যদি কল্যাণকর হয়, আল্লাহর কাছে তা চেয়ে দোয়া করুন এবং হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যান।”
“আশা পূরণের জন্য দোয়া করুন, কিন্তু ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার মানসিকতাও রাখুন।”
“দোয়ার সঙ্গে চেষ্টা যুক্ত করুন; কারণ তাওয়াক্কুল মানে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নয়।”
রাতের নির্জনতা মানুষকে নিজের অন্তরের দিকে তাকানোর সুযোগ দেয়। তাহাজ্জুদ, ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা মুমিনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান আমল।
“রাতের নীরবতায় করা দোয়া আপনার রবের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনের মতো এক গভীর মুহূর্ত।”
“সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নিজের কষ্ট ও আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া হৃদয়কে আলাদা এক প্রশান্তি দেয়।”
“তাহাজ্জুদের সময় শুধু চাওয়ার জন্য নয়, আল্লাহর কাছে নিজের হৃদয় সমর্পণ করার জন্যও।”
বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করা সন্তানের অন্যতম সুন্দর দায়িত্ব।
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
— সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৪
“বাবা-মায়ের জন্য করা দোয়া শুধু ভালোবাসার প্রকাশ নয়; এটি কৃতজ্ঞতারও প্রকাশ।”
“নিজের জন্য যতটা দোয়া করেন, বাবা-মায়ের জন্যও ততটা দোয়া করতে ভুলবেন না।”
দোয়ার সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা থাকা জরুরি। একজন মুমিন নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেন এবং ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন।
“দোয়া করুন, চেষ্টা করুন এবং ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন।”
“আল্লাহর কাছে চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কর্তব্য পালন করাও তাওয়াক্কুলের অংশ।”
“আপনি ভবিষ্যৎ জানেন না, কিন্তু আল্লাহ জানেন—এই বিশ্বাসই দুশ্চিন্তার মাঝে আশার শক্তি দেয়।”
“সব উত্তর নিজের কাছে খুঁজবেন না; কিছু প্রশ্ন আল্লাহর কাছে নিয়ে যান, আর দোয়ায় তাঁর সাহায্য চান।”
“যখন কোনো পথ খুঁজে পান না, তখন হাত তুলে আল্লাহকে ডাকুন।”
“দোয়া করুন এমন বিশ্বাস নিয়ে যে, আপনার রব শুনছেন; আর অপেক্ষা করুন এমন ধৈর্য নিয়ে যে, তাঁর সিদ্ধান্তই উত্তম।”
“আপনার দোয়ার শব্দ মানুষ না শুনলেও আল্লাহর কাছে তা অজানা নয়।”
“দোয়া করতে থাকুন; কারণ আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য কোনো দরজা খুঁজে বেড়াতে হয় না।”
দোয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব রয়েছে। আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে দোয়া শুরু করা, আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে চাওয়া, হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করা গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়ার পাশাপাশি নিজের কাজ ও আচরণও সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত। শুধু দোয়া করে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ইসলামি তাওয়াক্কুলের শিক্ষা নয়।
দোয়া একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা তাঁর মুখাপেক্ষী।
তাই দোয়া করুন, নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করুন, গুনাহ থেকে ফিরে আসুন এবং আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকুন।
আপনার দোয়া কবুল হতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে আপনার প্রার্থনা অজানা নয়।
দোয়া কুনুত (আরবি: القنوت) বিতর সালাতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) মাঝে মাঝে দুয়া কুনুত পাঠ করতেন। এক/তিন/পাঁচ/সাত/এগারো রাকাত বিতের সালাতের শেষ রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে বা রুকু থেকে উঠে দুই হাত তুলে বা বেধে দুআ কুনুত পাঠ করতে হয়।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈ’নুকা, ওয়া নাস্তাগ্ফিরুকা, ওয়া নু’’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ’, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকানুসল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ, – ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা – আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহিক্ব।
হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।
ইমাম নববি বলেন, জেনে রাখুন- অগ্রগণ্য মাজহাব মতে, কুনুতের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তাই যেকোনো দোয়া পড়লে— এর দ্বারা কুনুত হয়ে যাবে; এমনকি দোয়া সম্বলিত এক বা একাধিক কোরআনের আয়াত পড়লেও কুনুতের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে। তবে হাদিসে যে দোয়া এসেছে সেটা পড়া উত্তম। (আল-আজাকার, পৃষ্ঠা : ৫০)
সুতরাং আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দোয়া কুনুত মুখস্থ করে নেওয়া চাই। কারণ, এটা পড়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। তবে দোয়া মুখস্ত করার আগ পর্যন্ত আপাতত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি পড়া যাবে।
কোরআনের দোয়া :
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّ فِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন; আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০১)
দোয়া মাসুরা নামাজের শেষে পড়তে হয় । এটি পড়ে নামাজের সালাম ফেরানো হয় । নিচের এর আরবি , উচ্চারন ও বাংলা অর্থ বা অনুবাদ দেয়া হলো । আশাকরি আপনাদের কাজে আসবে । যদি সামান্য উপকার হয় তাহলে শেয়ার করবেন । ধন্যবাদ ।
আরবিঃ اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসি যুলমান কাসিরা । ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফির লি । মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা । ওয়ার হামনি । ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম ।
বাংলা অর্থ / অনুবাদঃ হে আল্লাহ ! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র আপনিই । অতএব আপনি আপনা হতেই আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন । নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু ।
এই দোয়া টি আমরা সাধারণত নামাযের শেষের দিকে বৈঠকে বসে আত্তাহিয়াতু পড়ার পর, দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর এই দোয়া টি পড়ে থাকি । নামাযে নিয়ত বাঁধার পর সানা (সুবাহাকাল্লাহুম্মা) পড়তে হয় । এর পর সূরা ফাতিহা পড়তে হয় । তারপর সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোন সূরা মিলিয়ে পড়তে হয় । এরপর রুকুতে গিয়ে সুবহা-না রব্বিয়াল আ`যিম পড়তে হয় । এরপর রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাড়াতে হয় । তারপর সিজদায় যেতে হয়, সেজদায় সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা পড়তে হয় । এভাবে দুই সেজদার পড় উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধতে হয় ।
তারপর আবার আগের নিয়মে সূরা ফাতিহা পড়ে, আগের মত করে পরের রাকাত শেষ করতে হয় । এভাবে যদি দুই রাকাত নামাজ হয়, তাহলে দুই রাকাত পড়ার পরে বসে আত্তাহিয়াতু পড়তে হয় । তারপর দুরুদে ইব্রাহিম পড়তে হয় । তারপর সালাম ফেরানোর আগে এই দোয়া মাসুরা পড়তে হয় ।
কবর জিয়ারত করলে হৃদয় বিনম্র হয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়। আখিরাতের প্রতি উৎসাহ পাওয়া যায়। গুনাহ ও অন্যায় থেকে তওবা করার মানসিকতা তৈরি হয়। সৎ-আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কবর জিয়ারত রাসুল (সা.) সুন্নতও বটে।
কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো- এতে পরকালীন জীবনের কথা স্মরণ হয়। ইসলামের প্রথম দিকে কবর জিয়ারতের অনুমতি ছিল না। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৫৭১)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পাঠ করেন—
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ
উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর; ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আ-সার।
অর্থ : হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৩)
সূত্র : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পাঠ করেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৩)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুল (সা.) একটি কবর জিয়ারতে গিয়ে বলেন—
السَّلامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤمِنينَ وإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاحِقُونَ
উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম দারা ক্বাওমিম মুমিনিন ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লা-হিকুন।
অর্থ : মুমিন এই ঘরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হবো। (সহিহ মুসলিম : ২৪৯)
কবরস্থানে যাওয়ার পর সর্বপ্রথম জিয়ারতের দোয়া পড়বেন। এরপর কবরবাসীর ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন সুরা ইত্যাদি পড়বেন। মৃতের বা কবরবাসীর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন।
হাদিসে কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে কিছু সুরার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ হয়েছে। পাশাপাশি দরুদ শরিফের ফজিলতের কথাও এসেছে। তাই দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা, সুরা ইখলাস, আয়াতুল কুরসি ও অন্য যেসব সুরা সহজ মনে হয়— সেগুলো পড়ে সওয়াব উপহার দেবেন।
কবর সামনে রেখে দুই হাত তুলে দোয়া উচিত নয়। তাই কবরকে পেছনে রেখে কিংবা কবরের দিকে পিঠ দিয়ে এরপর কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা চাই। আবার কেউ চাইলে হাত না তুলে মনে মনেও দোয়া করতে পারেন। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫০, কিতাবুল কারাহিয়্যা)
কবর জিয়ারতের নিয়ম,কবর জিয়ারতের সূরা সমূহ,কবর জিয়ারতের মোনাজাত,কবর জিয়ারতের সময় কি কি পড়তে হয়
পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। চিকিৎসা চলছে, ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, সবাই যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করছে—তবুও প্রিয় মানুষটির কষ্ট দেখে মন খারাপ হয়।
এমন সময় একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করে দোয়া করতে পারেন।
ইসলামে অসুস্থ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করার শিক্ষা রয়েছে।
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করার সময় নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাওয়া যায়। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত নির্দিষ্ট দোয়াগুলোও পড়া যায়।
এই লেখায় অসুস্থ ব্যক্তির জন্য হাদিসে বর্ণিত দোয়া, আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং প্রিয়জনের সুস্থতা কামনার কিছু বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ দোয়া হলো:
আরবি:
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা রাব্বান্-নাস, আযহিবিল বা’সা, ইশফিহি ওয়া আনতাশ্-শাফি, লা শিফা-আ ইল্লা শিফাউকা, শিফা-আন লা ইউগাদিরু সাকামা।
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন। তাকে আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান করুন, যাতে কোনো অসুস্থতা অবশিষ্ট না থাকে।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৬৭৫। একই দোয়ার কাছাকাছি শব্দে অন্যান্য বর্ণনাও রয়েছে।
এই দোয়ায় আল্লাহর কাছে রোগীর কষ্ট দূর করা এবং পূর্ণ আরোগ্য দানের আবেদন করা হয়েছে।
আরবি পাঠে রোগীর লিঙ্গ ও বর্ণনাভেদে শব্দের রূপ পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে পুরুষ রোগীর জন্য প্রচলিত একটি পাঠ দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরেকটি সংক্ষিপ্ত দোয়া বর্ণিত হয়েছে।
আরবি:
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
বাংলা উচ্চারণ:
আসআলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আন ইয়াশফিয়াকা।
বাংলা অর্থ:
আমি মহান আল্লাহর কাছে, যিনি মহান আরশের প্রতিপালক, আপনার আরোগ্য প্রার্থনা করছি।
সূত্র: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩১০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ২০৮৩।
বর্ণনায় এই দোয়াটি সাতবার পড়ার কথা এসেছে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: দোয়া করা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার একটি ইবাদত। এটি চিকিৎসা বাদ দেওয়ার নির্দেশ নয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে রোগমুক্তির নিশ্চয়তাও নয়।
কাউকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি সান্ত্বনামূলক বাক্য বলা যায়।
আরবি:
لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
বাংলা উচ্চারণ:
লা বা’সা, তুহূরুন ইনশাআল্লাহ।
বাংলা অর্থ:
চিন্তার কিছু নেই। আল্লাহ চাইলে এটি পবিত্রতার কারণ হবে।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬১৬।
এই কথাটি অসুস্থ ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা যায়। তবে রোগীর বাস্তব কষ্টকে অস্বীকার করা বা চিকিৎসার প্রয়োজনকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
নিজের শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা অনুভব করলে হাদিসে একটি দোয়া ও আমলের বর্ণনা রয়েছে।
প্রথমে ব্যথার স্থানে হাত রেখে তিনবার বলতে বলা হয়েছে:
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ
বাংলা উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে।
এরপর সাতবার পড়তে বলা হয়েছে:
আরবি:
أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
বাংলা উচ্চারণ:
আউযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু।
বাংলা অর্থ:
আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০২।
ব্যথার কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি একজন মুসলিম এই দোয়া পড়তে পারেন।
কোরআনে হজরত আইয়ুব (আ.)-এর একটি প্রার্থনা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরবি:
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
বাংলা উচ্চারণ:
আন্নী মাস্সানিয়াদ্-দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন।
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আমাকে কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি দয়ালুদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু।
সূত্র: সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৩।
এই আয়াতে হজরত আইয়ুব (আ.)-এর আল্লাহর কাছে কষ্টের কথা তুলে ধরার বিষয়টি এসেছে।
এটি থেকে একজন মুমিন শিখতে পারেন, অসুস্থতা বা বিপদের সময় নিজের কষ্ট আল্লাহর কাছে প্রকাশ করা যায়।
আয়াতটি পড়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও সুস্থতার জন্য দোয়া করা যায়।
কোরআনের আয়াতটি দেখতে পারেন সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৩-তে।
মা-বাবা অসুস্থ হলে সন্তান হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের ভাষায় এভাবে দোয়া করতে পারেন:
মায়ের জন্য দোয়া:
“হে আল্লাহ, আমার মায়ের অসুস্থতার কষ্ট দূর করে দিন। তাঁকে সুস্থতা ও স্বস্তি দান করুন। তাঁর চিকিৎসা সহজ করুন এবং তাঁকে ধৈর্য দিন। আমিন।”
বাবার জন্য দোয়া:
“হে আল্লাহ, আমার বাবাকে আরোগ্য দান করুন। তাঁর কষ্ট কমিয়ে দিন, চিকিৎসায় কল্যাণ দিন এবং তাঁকে সুস্থতার সঙ্গে সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ দিন। আমিন।”
এগুলো নিজের ভাষায় রচিত প্রার্থনা; হাদিসের নির্দিষ্ট শব্দ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
সন্তান অসুস্থ হলে মা-বাবার দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক।
সন্তানের জন্য নিজের ভাষায় এভাবে দোয়া করতে পারেন:
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে সুস্থতা দান করুন। তার কষ্ট দূর করে দিন। তাকে নিরাপদে রাখুন এবং তার চিকিৎসা সহজ করুন। আমিন।”
আরও বলতে পারেন:
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানের শরীর ও মনের কষ্ট কমিয়ে দিন। তাকে আরোগ্য, স্বস্তি ও কল্যাণ দান করুন।”
শিশুর অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনসঙ্গী অসুস্থ হলে তার যত্ন নেওয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বামীর জন্য:
“হে আল্লাহ, আমার স্বামীকে সুস্থতা দান করুন। তাঁর কষ্ট দূর করে দিন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি দিন। আমিন।”
স্ত্রীর জন্য:
“হে আল্লাহ, আমার স্ত্রীকে আরোগ্য দান করুন। তাঁর চিকিৎসা সহজ করুন, কষ্ট কমিয়ে দিন এবং তাঁকে সুস্থতা দান করুন। আমিন।”
এই প্রার্থনাগুলোও নিজের ভাষায় রচিত; নির্দিষ্ট হাদিসের উদ্ধৃতি নয়।
বন্ধু অসুস্থ হলে আন্তরিকভাবে খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া ভালো।
নিচের বার্তাগুলো পাঠাতে পারেন।
১. “আল্লাহ তোমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন। নিজের যত্ন নিও এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নাও।”
২. “তোমার অসুস্থতার খবর শুনে মন খারাপ হয়েছে। আল্লাহ তোমার কষ্ট কমিয়ে দিন। আমিন।”
৩. “তোমার জন্য দোয়া করছি। চিকিৎসা বা অন্য কোনো কাজে সাহায্য লাগলে জানিও।”
৪. “আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আশা করি, শিগগিরই ভালো বোধ করবে।”
৫. “দূরে থাকলেও তোমার জন্য আন্তরিক দোয়া রইল। আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন।”
৬. “তোমার অসুস্থতার সময় পাশে থাকতে চাই। কোনো প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় বলো।”
৭. “আল্লাহ তোমাকে ধৈর্য, স্বস্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।”
৮. “তোমার ভালো থাকার খবর শোনার অপেক্ষায় আছি। আল্লাহ তোমার চিকিৎসায় কল্যাণ দিন।”
অসুস্থতার অনুভূতি প্রকাশের জন্য আরও কথা পড়তে পারেন অসুস্থতা নিয়ে উক্তি পোস্টে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসুস্থ প্রিয়জনের জন্য দোয়া চাওয়ার সময় সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন।
১. “আল্লাহ সব অসুস্থ মানুষকে সুস্থতা দান করুন। আমিন।”
২. “আমার প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”
৩. “হে আল্লাহ, অসুস্থ মানুষের কষ্ট সহজ করে দিন।”
৪. “আল্লাহ আমার পরিবারের অসুস্থ সদস্যকে আরোগ্য দান করুন।”
৫. “সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন দ্রুত সুস্থতা দান করেন।”
৬. “হে আল্লাহ, চিকিৎসাধীন সব মানুষকে স্বস্তি দিন।”
৭. “অসুস্থ প্রিয়জনের জন্য আন্তরিক দোয়া রইল।”
৮. “আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থতা ও কল্যাণ দান করুন।”
৯. “যারা অসুস্থতার কষ্টে আছেন, আল্লাহ তাঁদের কষ্ট কমিয়ে দিন।”
১০. “আল্লাহ সব রোগীর চিকিৎসা সহজ করুন। আমিন।”
দোয়া করার সময় আল্লাহর কাছে রোগীর সুস্থতা, কষ্ট লাঘব এবং কল্যাণ কামনা করতে পারেন।
আরবি দোয়া জানা না থাকলেও নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে সুস্থতা চাওয়া যায়।
কারও অসুস্থতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার আগে তার বা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের সম্মতি নেওয়া ভালো।
ইসলামে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে উৎসাহমূলক বর্ণনা রয়েছে। দোয়া ও চিকিৎসাকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য দেখতে পারেন।
শুধু দোয়ার কথা বলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সুযোগ থাকলে রোগীর চিকিৎসা, যাতায়াত, খাবার কিংবা দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করতে পারেন।
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত “আল্লাহুম্মা রাব্বান্-নাস, আযহিবিল বা’সা…” দোয়াটি পড়তে পারেন। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোগীর কষ্ট দূর করা ও আরোগ্য দানের আবেদন করা হয়।
“আসআলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আন ইয়াশফিয়াকা” দোয়াটি সাতবার পড়ার বর্ণনা রয়েছে।
হ্যাঁ, নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করা যায়।
“লা বা’সা, তুহূরুন ইনশাআল্লাহ” বলা যায়। এটি হাদিসে বর্ণিত একটি সান্ত্বনামূলক বাক্য।
না। দোয়া চিকিৎসার বিকল্প নয়। অসুস্থতার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিয় মানুষ অসুস্থ হলে তার জন্য দোয়া করা একজন মুসলিমের আন্তরিক ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রকাশ হতে পারে।
ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য কামনার একাধিক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এসব দোয়া পড়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে রোগীর সুস্থতা ও স্বস্তি চাওয়া যায়।
এই লেখায় অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া, আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, অসুস্থ মা-বাবা, সন্তান, জীবনসঙ্গী ও বন্ধুর জন্য প্রার্থনা এবং সুস্থতা কামনার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহ সব অসুস্থ মানুষকে আরোগ্য দান করুন, তাঁদের কষ্ট সহজ করুন এবং তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দিন।
আমিন।
আসসালামুআলাইকুম।সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আশাকরি সকলে সুস্থ আছেন। banglaquote.com এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ayatul kursi banglaকোরআনের মাজীদের শ্রেষ্ঠ আয়াত।আয়াতুল কুরসি Surah Al-Baqarah verse 255, আল কুরআনের কারীমের একটি আয়াত, যাহাতে বর্ণিত হয় মহান আল্লাহ্ শ্রেষ্ঠত্ব-মাহাত্ম্য,জ্ঞান,বিদ্যা-মহিমা,
আল্লা-হু লা-ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া (ج) আল হাইয়ুল । কাইয়ূমু (ج) লা-তা’খুযুহু ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন (ط) লাহ্ মা-ফিছ ছামা-ওয়াতি ওয়ামা-ফিল আরদি (ط)।
মাং যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইংদাহ্ইল্লা-বিইযনিহী (ط) ইয়া’লামু মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম (ج)) ওয়ালাএ ইউহীনা বিশাইইম্ মিন ইলমিহী-ইল্লা-বিমা-শা ~ আ (ج))
ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদ। (ج) ওয়ালা-ইয়াউদুহু হিফজুহুমা- (ج) ওয়া হুওয়াল| ‘আলিইয়ুল আজীম।
আয়াতুল কুরসী বাংলা অর্থ : আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই । যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোন তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁহাকে পাকড়াও করতে পারেন না।
আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর নির্দেশ ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানে।
তাঁর জ্ঞানের সাগর হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কেদারা সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলির তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ এবং বৃহত্তম’।
আজকে আমরা আসতাগফিরুল্লাহ অর্থ কি তা জানবো। আসুন জেনে নেই এর অর্থ কি।
এটি হলো একটি আরবি শব্দ । যার অর্থ হলো আমি (মহান) আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাই।
আমরা অনেকেই জানি না, কখন আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। আসলে আমাদের দ্বারা যখন কোন খারাপ কাজ হয়ে যায়। সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। কারণ হল আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ্ খুশী হন এবং ক্ষমা করে থাকেন। আমরা মানুষ,আর মানুষ মাত্রই ভুল বা অপরাধ করে থাকে । আমাদের মধ্যে অনেকেই জেনে অপরাধ করে আবার অনেকেই না জেনে পাপ করে । তবে আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে অপরাধী আল্লাহ্র কাছে । কাজেই আল্লাহর কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়াতে কোন লজ্জা নেই । আমাদের এই লিখা যদি আপনার সামান্যতম কোনো উপকারে আসে, তাহলে শেয়ার করবেন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ সকল কে।
আলহামদুলিল্লাহ অর্থ কি তা আমরা আজ কে জানবো। আশাকরি পুরো লেখাটি পড়বেন। মুসলমান হিসেবে আমরা কয়েকটি আরবি শব্দ বেশির ভাগ সময় বলে থাকি। তার ভিতর অন্যতম হলো আলহামদুলিল্লাহ্ । আসুন জেনে নেই এই আরবি শব্দটির বাংলা অর্থ কি?
আলহামদুলিল্লাহ শব্দের বাংলা অর্থ হলো-
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্ তায়ালার জন্য । মহান আল্লাহ্র প্রশংসা করা আমাদের জন্য খুবই জরুরী একটা বিষয় । কারণ আমাদের সব কিছু আল্লাহ্র উপরই নির্ভর করে । আর আল্লাহ্র প্রশংসা করলে আল্লাহ্ খুশী হন । সকল ক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ মহান আল্লাহ্র প্রশংসা করা । তাহলে তিনি আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর করে দিবেন ।
কখন এটা বলতে হয়ঃ
এই শব্দ টি আমরা অনেকেই ভুল করে অন্য জায়গায় বলে ফেলি । আসুন জেনে নেই আমরা কোন কোন অবস্থায় এই কথা টি বলতে পারিঃ
এছাড়া আরো অনেক ক্ষেত্রে এটা বলা যায় । কোরআন ও হাদিসের আলোকে বলা যায়- আমরা এই কথা টা যত বেশী বলতে পারি, আমাদের জন্য তত বেশী ভালো ।
চলুন দেখে নেই- মাশাআল্লাহ অর্থ কি এবং কখন এটা বলতে হয়।
“মাশাআল্লাহ” হলো একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ হলোঃ আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তাই হয়।
জেনে নেই এটা কখন বলতে হয়ঃ
১। সুন্দর কোনো কিছু দেখতে পেলে।
২। কেউ ভালো কোন কাজ করলে।
৩। কারো সফলতা দেখতে পেলে।
আমাদের অনেকেরেই জানা নেই, কখন মাশাআল্লাহ বলতে হয় আর কখন বলতে হয় সুবহানাল্লাহ। ইসলামী মতে নজর খুব খারাপ। কারো উপর নজর লাগলে, খুব বিপদ হয়ে থাকে তার। তাই আমাদের উচিৎ কোন ভালো কিছু দেখলে বা কেউ ভালো কিছু করলে মাশাআল্লাহ বলা সব সময়। এতে করে নজর লাগে না। এবং মানুষ নিরাপদ থেকে থাকে।