মধ্যদিনের আলোর দোহাই,
নিশার দোহাই ওরে
প্রভু তোরে ছেড়ে যাননি কখনো,
ঘৃণা না করেন তোরে।
অতীতের চেয়ে নিশ্চয়ই ভালো
হবে রে ভবিষ্যৎ,
একদিন খুশি হবি তুই লভি
তার কৃপা সুমহৎ।
অসহায় যবে আসিলি জগতে
তিনি দিয়াছেন ঠাঁই-
তৃষ্ণা ও ক্ষুধা দুঃখ যা ছিল
ঘুচায়ে দেছেন তাই।
পথ ভুলেছিলি তিনিই সুপথ
দেখায়ে দেছেন তোরে,
সে কৃপার কথা স্মরণে রাখিস;
অসহায় জনে ওরে
দলিস না কভু ভিখারি আতুর
বিমুখ যেন না হয়
তাঁর করুণার বারতা ঘোষণা
করবে দুনিয়াময়।
হাসি মানুষের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর একটি। কখনো একটি মিষ্টি হাসি মন ভালো করে দেয়, কখনো প্রিয় মানুষের হাসি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। আবার কখনো ছোট্ট একটি হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো না বলা কথা।
হাসি নিয়ে কবিতা পড়তে ভালোবাসেন অনেকেই। বিশেষ করে প্রিয় মানুষের মিষ্টি হাসি, ভালোবাসার মানুষের হাসি কিংবা মন ভালো করার হাসি নিয়ে লেখা কবিতাগুলো আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
কখনো হাসি প্রকাশ করে আনন্দ, কখনো ভালোবাসা, আবার কখনো কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকার সাহস।
আজকের লেখায় রয়েছে হাসি নিয়ে কবিতা, মিষ্টি হাসি নিয়ে ছোট কবিতা, প্রিয় মানুষের হাসি নিয়ে রোমান্টিক ছন্দ এবং মন ভালো করার সুন্দর কিছু কবিতা।
তোমার হাসি সকালবেলার
নরম রোদের আলো,
তোমার হাসি দেখলে আমার
লাগে ভীষণ ভালো।
মেঘলা দিনের আকাশজুড়ে
ফোটে রঙিন ফুল,
তোমার হাসি দেখলে যেন
সব দুঃখ যাই ভুল।
একটু হাসি, একটু মায়া,
একটু ভালোবাসা,
তোমার হাসি বাঁচিয়ে রাখে
আমার হাজার আশা।
একটু হাসি মুখে রাখো,
মনটা যাবে ভরে,
আঁধার দিনের কষ্টগুলো
হারিয়ে যাবে দূরে।
হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকে
সুখের ছোট্ট গান,
একটু হাসি ফিরিয়ে দিতে
পারে নতুন প্রাণ।
হাসতে শেখো নিজের মতো,
ভালোবাসো মন,
হাসির আলো ছড়িয়ে দাও
প্রতিটি ক্ষণ।
তোমার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি
মনটা ছুঁয়ে যায়,
অজান্তেই সেই হাসিটা
স্বপ্ন হয়ে রয়।
তোমার চোখের মায়ার মাঝে
হাসির ছোট্ট ঢেউ,
এমন করে মন ছুঁয়েছে
আগে কি আর কেউ?
তুমি যখন হেসে ওঠো
থেমে যায় সব কথা,
তোমার হাসি ভুলিয়ে দেয়
হৃদয়ের সব ব্যথা।
মিষ্টি হাসি মানুষের ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ সৌন্দর্য যোগ করে। বিশেষ করে প্রিয় মানুষের হাসি অনেক সময় আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকে।
একটুখানি হাসি তোমার
হাজার কথার সমান,
সেই হাসিতে খুঁজে পাই যে
সুখের নতুন গান।
একটুখানি হাসি দিলে
মনটা ভরে যায়,
তোমার মুখের মিষ্টি হাসি
হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
হাসিমুখে থাকো তুমি
এই তো আমার চাওয়া,
তোমার হাসির মাঝে যেন
সুখের ঠিকানা পাওয়া।
জীবন পথে দুঃখ এলে
ভেঙে পড়ো না আর,
হাসির আলোয় খুঁজে নিও
নতুন দিনের দ্বার।
তোমার মিষ্টি হাসির মাঝে
কী যে জাদু আছে,
এক নিমেষে মনটা আমার
ছুটে তোমার কাছে।
তোমার হাসি নদীর মতো
বয়ে চলে ধীরে,
সেই হাসিতে হারিয়ে যেতে
ইচ্ছে করে ফিরে ফিরে।
প্রিয় মানুষের হাসি অনেক সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি হয়ে ওঠে। সেই হাসি দেখার জন্যই হয়তো আমরা অনেক কষ্ট ভুলে যেতে পারি।
তোমার হাসি ফুলের মতো
ফোটে আমার মনে,
তোমার হাসি জড়িয়ে থাকে
প্রতিটি স্বপনে।
তোমার হাসি দেখব বলে
অপেক্ষাতে থাকি,
তোমার মায়ায় অজান্তেই
স্বপ্নগুলো আঁকি।
তোমার হাসি আমার কাছে
অমূল্য এক ধন,
সেই হাসিতে ভালো থাকে
আমার ছোট্ট মন।
তোমার হাসির প্রেমে পড়ে
হারিয়েছি মন,
তোমার হাসি দেখতে চাই
প্রতিটি ক্ষণ।
তুমি যখন হেসে ওঠো
ফুল ফোটে চারপাশে,
আমার যত ভালোবাসা
তোমার কাছেই আসে।
দিনের শেষে ক্লান্ত মনে
যখন আঁধার নামে,
তোমার হাসির স্মৃতিগুলো
ফিরে আসে থেমে থেমে।
তোমার হাসি দেখব বলে
অপেক্ষাতে থাকি,
সেই হাসিটা হৃদয়জুড়ে
যতন করে রাখি।
ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইলে BanglaQuote-এর রোমান্টিক স্ট্যাটাস লেখাটিও পড়তে পারেন।
তোমার হাসির জাদুতে আজ
হারিয়ে গেছে মন,
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
কেটে যায় সারাক্ষণ।
তুমি হাসলে আকাশজুড়ে
জ্বলে তারার আলো,
তোমার হাসি দেখলে আমার
লাগে ভীষণ ভালো।
তোমার হাসি আমার কাছে
ভালোবাসার গান,
সেই হাসিতে খুঁজে পাই যে
সুখের নতুন প্রাণ।
তুমি হাসলে মনটা আমার
আনন্দেতে ভরে,
তোমার হাসি স্মৃতি হয়ে
থাকে হৃদয়ঘরে।
একটি হাসি, একটি চোখ,
একটি মিষ্টি চাওয়া,
সেই মুহূর্ত থেকেই যেন
তোমায় ভালো লাগা।
তোমার হাসি গল্প হয়ে
থাকে আমার মনে,
সেই গল্পই পড়তে চাই
প্রতিটি জীবনে।
অনেক সময় ছোট কবিতার কয়েকটি লাইনই মনের অনুভূতি সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারে।
হাসির ফুল ফুটুক মনে,
সুখ থাকুক প্রতিক্ষণে।
দুঃখগুলো দূরে যাক,
ভালোবাসা সঙ্গে থাক।
এক চিলতে হাসি দাও,
মনটা আমার ভরিয়ে যাও।
মেঘলা দিনে রোদের মতো,
থেকো তুমি আপন যত।
হাসির রঙে রাঙাও মন,
সুখে কাটুক প্রতিক্ষণ।
জীবন হোক ফুলের মতো,
ভালোবাসা থাকুক কত।
হাসিমুখের মানুষগুলো
মনটা ছুঁয়ে যায়,
তাদের মিষ্টি কথাগুলো
স্মৃতি হয়ে রয়।
হাসি দিয়ে শুরু হোক
নতুন দিনের গান,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক
সবার মনপ্রাণ।
সব হাসি আনন্দের হয় না। কখনো মানুষ নিজের কষ্ট আড়াল করতেও হাসে। আবার কখনো কঠিন সময়ের মাঝেও হাসি আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়।
মুখে আমার হাসি আছে,
মনে কত ব্যথা,
সবাই দেখে হাসিমুখটা,
শোনে না মনের কথা।
হাসির আড়াল যতই থাক,
চোখে জমে জল,
তবুও আমি চলতে শিখি
নিয়ে মনের বল।
হাসি দিয়ে ঢেকে রাখি
হাজার অভিমান,
কেউ বোঝে না নীরব মনে
কত যে ঝড়ের গান।
তবুও আমি হাসতে চাই
নতুন দিনের আশায়,
একদিন সুখ ফিরবে আবার
জীবনেরই ভাষায়।
চোখের কোণে জল জমেছে,
মুখে তবু হাসি,
কষ্টগুলো নিজের মতো
হৃদয়জুড়ে রাখি।
সবাই ভাবে ভালো আছি,
দেখে হাসিমুখ,
নীরব মনে লুকিয়ে থাকে
না বলা কত দুঃখ।
হাসতে শেখো নতুন করে,
যতই আসুক ঝড়,
আশার আলো জ্বেলে রেখো
হৃদয় নামের ঘর।
ভুলের মাঝে শিক্ষা খুঁজে
সামনে এগিয়ে যাও,
ছোট্ট ছোট্ট সুখগুলোকে
আপন করে নাও।
একটু হাসি সাহস জোগায়
কঠিন দিনের শেষে,
একটু আশা পথ দেখায়
অন্ধকারের দেশে।
জীবন যত কঠিন হোক,
স্বপ্ন ছেড়ো না,
নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে
পথ চলা থামিও না।
১. তোমার হাসি ফুলের মতো, মনটা ছুঁয়ে যায়,
তোমার হাসি দেখলে আমার দুঃখ ভুলে যায়।
২. হাসি দিয়ে শুরু হোক নতুন দিনের গান,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক সবার মনপ্রাণ।
৩. তোমার হাসির মিষ্টি আলো ছড়িয়ে পড়ে মনে,
সেই আলোতেই স্বপ্ন দেখি প্রতিটি ক্ষণে।
৪. একটুখানি হাসি দিলে মনটা ভরে যায়,
হাজার দিনের ক্লান্তি যেন দূরে সরে যায়।
৫. তোমার হাসি রোদের মতো মেঘলা দিনের শেষে,
মনটা আমার ভালো হয়ে যায় তোমায় দেখে হেসে।
৬. হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকে মনের অনেক কথা,
কখনো সুখের অনুভূতি, কখনো নীরব ব্যথা।
৭. তোমার হাসি দেখতে চাই প্রতিটি সকালবেলা,
সেই হাসিতে রঙিন হোক জীবনের সব খেলা।
৮. মিষ্টি হাসি মুখে রাখো, ভালোবাসা দাও,
নিজের মতো সুন্দর করে জীবন সাজিয়ে নাও।
কবিতার পাশাপাশি হাসিমুখের ছবি প্রকাশের জন্য নিচের ছোট ক্যাপশনগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
১. হাসিটুকুই থাকুক আমার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়।
২. একটুখানি হাসি, অনেকখানি ভালো লাগা।
৩. হাসিমুখে কাটুক জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো।
৪. আমার হাসির পেছনেও আছে অনেক গল্প।
৫. মিষ্টি হাসিতে লুকিয়ে থাকে মনের সৌন্দর্য।
৬. হাসি দিয়ে শুরু হোক নতুন সকাল।
৭. নিজের মতো হাসতে পারাটাও একধরনের আনন্দ।
৮. সব হাসির পেছনে একই গল্প থাকে না।
৯. তোমার হাসিটাই আমার প্রিয় দৃশ্য।
১০. জীবন সুন্দর, যখন ছোট ছোট আনন্দগুলো অনুভব করতে পারি।
হাসি মানুষের আবেগ প্রকাশের একটি স্বাভাবিক মাধ্যম। আনন্দ, ভালো লাগা, বন্ধুত্ব কিংবা সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মুহূর্তে হাসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হাসি অনেক সময় মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সাহায্য করে। আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক সংযোগ মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
হাসি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক সম্পর্কে আরও জানতে পারেন Mayo Clinic-এর হাসি ও মানসিক চাপ সম্পর্কিত আলোচনা থেকে।
তবে সবসময় হাসিমুখে থাকা জরুরি নয়। মন খারাপ, দুঃখ কিংবা হতাশা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। নিজের অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করা এবং প্রয়োজনে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলাও গুরুত্বপূর্ণ।
হাসি নিয়ে একটি ছোট কবিতা—
হাসির ফুল ফুটুক মনে,
সুখ থাকুক প্রতিক্ষণে।
দুঃখগুলো দূরে যাক,
ভালোবাসা সঙ্গে থাক।
প্রিয় মানুষের হাসি নিয়ে লিখতে পারেন, “তোমার হাসি সকালবেলার নরম রোদের মতো, যা আমার মন ভালো করে দেয়।”
এই লেখার ‘হাসি নিয়ে রোমান্টিক কবিতা’ অংশে প্রিয় মানুষের হাসি ও ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে বেশ কয়েকটি মৌলিক কবিতা রয়েছে।
“একটুখানি হাসি, অনেকখানি ভালো লাগা” কিংবা “হাসিটুকুই থাকুক আমার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়”—এ ধরনের ছোট ক্যাপশন ব্যবহার করতে পারেন।
হাসি মানুষের জীবনের একটি সুন্দর অনুভূতি। কখনো প্রিয় মানুষের হাসি আমাদের আনন্দ দেয়, কখনো ছোট্ট একটি হাসি মনে সাহস জোগায়। আবার কখনো হাসির আড়ালেও লুকিয়ে থাকে না বলা অনেক কথা।
এই লেখায় হাসি নিয়ে কবিতা, মিষ্টি হাসি নিয়ে ছন্দ, প্রিয় মানুষের হাসি নিয়ে রোমান্টিক কবিতা এবং হাসি নিয়ে ছোট ক্যাপশন তুলে ধরা হয়েছে।
আশা করি, কবিতাগুলো আপনার ভালো লাগবে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করবে।
হাসি থাকুক জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোতে, আর ভালোবাসা থাকুক প্রতিটি সম্পর্কের গভীরে।
এটাই কি আমার বড় ভুল, তোমাকে ভালবাসা
স্ম্রৃতির একটা পাতা উল্টিয়ে দেখলাম,
গৌরবময় স্বর্ণালী দিন বিগত, বুঝলাম!
তুমিই ছিলে একমাত্র আমার মানষপটে,
যাকে নানাভাবেই সাজিয়েছিলাম অকপটে!
তোমাকে তো ভালবেসেছিলাম আমি সীমাহীন,
যে ভালবাসার থাকার কথা ছিল অমলীন!
আমার দিনের সূত্রপাত হত তোমার নাম দিয়ে,
এইত আমাদের ভালবাসা, কথা হত যা নিয়ে!
ভালবাসার মাঝে হারিয়েছিলাম এমন করে,
নিজেকে ধ্বংস করেছিলাম নিজ হাতে ধরে!
তোমাকে পাবার জন্য নিজেকে করেছিলাম বিচ্ছিন্ন,
সামান্য আবেগেও নিজেকে করেছিলাম পূর্ণ আচ্ছন্ন!
আমাকে দেখতো সবে মবে সন্দেহের প্রলেপ নিয়ে,
আমি যে সেটা সহ্য করতে পারতাম না কোনভাবে!
অন্ধ ভালবাসা আমাকে পরিবার থেকে করেছিল দূর,
ভেবেছিলাম শুধু তোমাকে নিয়েই বাঁধব নতুন সুর!
আমি কি ভাবতে পেরেছিলাম এই আমূল পরিবর্তন?
আমার ভালবাসায় করতে হবে আমায় পৃষ্ঠ প্রদর্শন?
আমি সেদিন বুঝি নাই প্রেম তোমার কাছে খেলা-
আর এটাই যে আমার বড় ভুল, তোমাকে ভালবাসা।
কুমার জীবন
একজন পুরুষের জীবনে রয়ে গেছে কিছু ভাগ,
যার মধ্যে কোনটার জন্য মনে থাকে অনুরাগ!
যখন সেটা পার হয়ে যায়, মনে থাকে কষ্ট:
কভু ফেরানো যাবে না সেটা, তা তো সুস্পষ্ট!
মাত্র একবারই জীবনে আসে সেই সুবর্ণ সময়,
কুমার জীবনই সেটা, যদি কেউ তার নাগাল পায়!
এটা সেই জীবন যেথা মানুষ পায় কিছু উত্তালতা,
এটাই সেই সময় যখন সে পায় না বলার স্বাধীনতা।
কুমার জীবন উপভোগ্য কিন্তু যে ভোগ করতে পারে,
বিয়ের পরে যা হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু চিরতরে!
জীবনের সুবর্ণ সময়গুলো তো আসে না বারবার,
তাই চেষ্টা কর এর পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করার!
বৈবাহিক জীবনে অনেক সময় এসে যায় জটিলতা,
নিজের দিকে নজর দেবার তখন আর সময় কোথা?
অনেক ছেলেই আগে ভাগে বুঝতে পারে না এটা,
বুঝে তখনই যখন জটিল আকার ধারণ করে সেটা!
বিয়ের পরে একটা ছেলের জীবনে আসে পরিবর্তন,
কিন্তু সেটা সে বোঝে না যখন সময়ের হয় সংক্ষেপন!
নিজের আবেগ অনুভুতিগুলোর দিও না অকাল সমাধি,
মুল্যায়ন করতে শেখ কুমার জীবনের সংক্ষিপ্ত কালবিধি।
আমার চারপাশে
আমি বোঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি
কি হচ্ছে আমার চারপাশে,
এটা আমার জন্য সুখকর কিছু নয়
তাতে কার কি যায় আসে?
এখন আমি বসে আছি
বিশাল সাজানো একটা ঘরে,
চেয়ার, টেবিল সবই আছে-
কিন্তু আমি যে নই নিজ গৃহে!
অনেক্ষন ধরে চেষ্টা করছি
কে কি বলে সেটা শুনতে,
কিছুই লাগছে না ভাল,
কিছুই পারছি না বুঝতে!
একটা সময় আসবে এমন
যখন সব হবে আমার গিলতে,
নাহলে তো কেউ পারবেনা,
আমার পতন ঠেকাতে!
খুব বিরক্তিকর ঠেকছে আমার
আমি চলে হেতে চাই এখন,
কার কাছে লাগছে ভাল
সন্দেহ আছে বিলক্ষণ!
আমার ঘর আমাকে ডেকে চলেছে,
আসছে ঘুম চোখ জুড়ে,
কিন্তু আমি যদি চলে যাই তবে
আমার পতন হবে পাতাল ফুঁড়ে!
আমার চারপাশের বন্ধুরা সব
মনোযোগ দিয়ে শুনছে,
কিন্তু আমি তা পারছি না দেখে
আমার খুব ভয় করছে!
পড়তে আমার লাগে না ভাল
তার পরেও আমি বাধ্য,
কবে যে মুক্তি পাব আমি,
বলতে কার আছে সাধ্য?
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি আমি
আমার আশেপাশের মানুষগুলা
এরা সবাই খুব সাবধানী,
আর অসাধারণ সব পড়ুয়া!
আমার কাছে সব কিছুই এখন
লাগছে ভীষন বোঝা,
তবুও বলতে পারি না, ক্ষমা কর
আর পারিনা সইতে এ সাজা।
চেষ্টা করে যাচ্ছি জেগে থাকতে,
দেখে আর শুনে যেতে-
এখনও বুঝতে চেষ্টায় আছি
কি ঘটছে আমার চারপাশে!
পুরানো চিঠি
বাসার গেটে এসে থামলো
নীল রঙের একটা গাড়ী,
দেরী হয়নি মোটেও
আসতে তার বাড়ী!
একজন মানুষ নেলে এল
হাতে ব্যাগের বোঝা,
মাঝবয়সী মানুষ উনি,
দেখতে সরল সোজা!
ধীর পায়ে হেটে চলেন
সামনে বন্ধ দুয়ার-
নিঃশব্দে এগিয়ে যান,
লোক আসবে খোলার।
মৃদু চাপে উনি যখন
বাজিয়ে দিলেন ঘন্টা,
রহস্যময় এক ঘটনা
যা চঞ্চল করবে মনটা!
বয়স্কা এক মহিলে বলেন,
কে আছে ওখানে?
লোকটা তখন বলে ওঠে,
মা! আমিই দাঁড়িয়ে এখানে।
আনন্দের আতিশয্যে মা তখন
হয়ে যান বোকা,
খুশি হয়ে বলে ওঠেন,
আয় রে আমার খোকা!
অশ্রুসজল নয়নে মা বলে,
এতদিন পর এলি খোকা?
এতদিন কোথায় ছিলি তুই?
দিয়ে আমায় ধোঁকা?
মাকে জড়িয়ে ধরে লোকটি,
কপালে দেয় চুম!
তোমাকে ছেড়ে মা আমার
চোখে ছিলনা ঘুম।
বাবা, রিশ্রাম নে।
মা ওঠেন বলে,
ঠিক যেন ছোট্ট পাখি
সাঝেঁ নীড়ে ফেরে।
গোসল সেরে উনি
হয়ে ওঠেন সতেজ,
সারা বাড়ীজুড়ে যেন
ফুলের সুরভী আমেজ!
এরপর উনি যখন
সেরে ওঠেন প্রার্থনা,
মা তখন নিয়ে আসেন
খাবার ভর্তি খাঞ্ছা।
মা তো বানিয়েছেন
অনেক রকম খাদ্য,
অতুলনীয় সেগুলো যে
সবকিছুই অনবদ্য!
মা বলেন, ২০ বছর আগের
চিঠি একটা আছে পুরান,
তুই হয়ত বুঝবি,
জানবি কার নাম।
বহু বছর হয়ে গেল
যখন আমি গেলাম,
অনেক বছর পার করে
ঠিকি ফিরে এলাম।
ঠিক, মা বললেন
দিয়ে একটু হাসি।
চিঠি টা দাও তো,
খুলে তবে দেখি!
হলুদ খামে মোড়া চিঠি
লেখাগুলো ঝাপ্সা-
মনে পড়ছে না কিছু
ক্লান্তিতে সব আবসা!
বালিসে হেলান দিয়ে ওটা
চেষ্টা করেন দেখা-
লেখা দেখে মনে হয় যেন
কোন কাঁচা হাতের লেখা!
ভাল করে দেখার পরেও
ঠাহর হল না কিছুই,
স্মৃতির পাতা হাতড়ে গিয়ে
হতাশ হলেন শুধুই!
এক ঝটকা আলোর মত
কি যেন এল মনে,
দুঃখে ছেয়ে গেল মুখ
চিঠির পানে চেয়ে।
কেউ তো জানে না
কি ছিল লেখা,
জানে শুধুই সে-
যে পেয়েছে দেখা।
এরপর যে কি হল
তা নেই কারো জানা,
কবিতায় যে সব কথা
বলতে আছে মানা।
নতুন নয়ত কিছু!
আজ আমার শরীর খারাপ লাগছে
মনে হচ্ছে যেন জ্বর এসেছে গায়ে,
এমনটা তো হয়নি কখন আগে:
ভাল লাগছে না কিছুই ডানে বায়ে!
সারাদিন ধরে নামলো অঝরে বৃষ্টি,
ক্ষণিকের তরেও হয়নি ক্ষান্ত,
ভেবেছিলাম একটু বাইরে বের হব
যদি মনটা একটু হত শান্ত!
ছাত্রাবাসে সারাদিন একাই অলস বসে
পৌঁছে গেলাম বিরক্তির শেষ সীমায়,
আমি এখান থেকে মুক্তি পেতে চাই,
সেই পথ কে দেখাবে আমায়?
এরুপ বৃষ্টিভেজা দিনের কথা
মনে পড়ে যায় ক্ষনে ক্ষনে,
ঘরের কথা মনে পড়ে যায় যেথা
ঢলে পড়তাম ঘুমের ঘোরে!
আর মনে পড়ে কিছু সুস্বাদু খাবার
যা খেতাম আমার নিজের ঘরে,
এর কিছু গল্প উপন্যাস এর বই-
যার কাহিনী আজো মনে পড়ে!
সময়ের এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে
আগের মত নেই যে আর কিছু,
অতীত-বর্তমানের মাঝে ভবিষ্যত
দেয়াল টেনে দিয়েছে পিছু পিছু!
আমার নিজেকে বড়ই অসহায় লাগে
তুমি কি বুঝতে পারছ আমার যন্ত্রনা?
দুর্ভাগ্যেরর আবরণ আমাকে জড়িয়ে নিয়ে
দিয়ে গেছে কিছু নির্মম বিড়ম্বনা!
কেই যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করে,
কেমন আছ হে বন্ধু?
দক্ষ অভিনেতার মত আমি বলে উঠি,
আগের মতই! নতুন নয়ত কিছু!
তোমার তরে হাসিমুখে
একদিন দেখেছিলাম সুন্দর এক স্বপ্ন,
নদীর তীরে আমরা বসেছিলাম মগ্ন!
যখন তুমি ধরেছিলে আমার হাত-
পুষ্পসম প্রস্ফুটিত হয়েছিল প্রভাত!
কানে কানে বলেছিলে চুপি চুপি-
মৃদু বাতাস করেনি কোন কারচুপি!
আমার হৃদয়ে লেগেছিল এক সাড়া-
তুমিই আমার অন্তরে দিয়েছিলে নাড়া!
তোমার জন্য ফুল তুলতে চাইলাম একটি,
তখন শুরু হয়ে গেল মুশল ধারে বৃষ্টি!
আমি তোমাকে বলেছিলাম, এস প্রিয়তম!
লজ্জা পেয়ে তুমি হয়েছিলে অবনত!
আমার জীবনে তুমি দিয়ে দিয়েছো দোলা
আমার জীবনে যদিও ছিল কত ঝামেলা!
তোমাকে কত ভালবাসি, এটা রেখ স্মরণ,
তোমার তরে হাসিমুখে মৃত্যু করবো বরণ।
কষ্টকে জয় করতে
আমদের এই জীবনটা খুব সংক্ষিপ্ত,
তবুও কেন একে অন্যের প্রতি ক্ষিপ্ত?
আমরা পারি একে অর্থবহ করে তুলতে,
আমার পারি সব কষ্টকে জয় করতে!
ভবিষ্যতের জন্য আছে কিছু স্বপ্ন-
সেটা যেন না হয় আঁধারে নিমগ্ন!
প্রত্যেককে দিতে হবে তাই কঠোর শ্রম,
সুন্দর পৃথিবীর জন্য না থাকুক কোন ভ্রম!
এস বন্ধু! সবে মিলে দুঃখকে জয় করি,
সকল জরা ভুলে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ি!
তুমিই আমার ভুবন
আমাদের ভূবনে থাকবে না কোন বেদনা,
থাকবে না কোন বিরহ আর দেনা-পাওনা!
তোমাকে ছেড়ে আমি কখনও দূরে যাবোনা,
তোমার ব্যাপারে আমি পিছপাও হবোনা!
ঢেকে রাখবো তোমায় দিয়ে সব ভালবাসা,
প্রমাণ করতে পারি, তুমিই আমার আশা!
আমার জীবনে তুমি এনে দিলে পরিবর্তন,
তোমার জন্য আমার সব! এটা রেখ স্মরণ!
তোমার হৃদয়ের মাঝে আমায় দিও আসন,
তুমিই আমার ভালবাসা, তুমিই আমার ভুবন।
একাকী পথচলা
চিন্তা করেও ভেবে পাইনা কি লিখবো-
মনের মধ্যে পাই না কোন আশার আলো!
একা একা হাঁটি আমাই দিনভর বারান্দায়,
পৌঁছাতে পারলাম না জীবনের কিনারায়!
যন্ত্রে রুপান্তরিত হচ্ছে আমাদের এই জীবন,
যন্ত্রের মধ্যেই বাঁচা আর যন্ত্রের মধ্যেই মরণ!
মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমার নিজের অস্তিত্ব,
খালি কামরায় যখন গুমরে মরে সব আমিত্ব!
যন্ত্রমানব হয়ে গিয়েছি! উপায় নেই ফেরার!
জীবন প্রত্যাশী? কিন্তু কিই বা আছে পাবার?
কখন মনে হয় আমি ফিরে আসবনা আবার-
ভাবি আমি পথ কি খোলা আছে চলে যাবার?
কন্টকময় স্বর্গে আমি নিজেকে করলাম আবিস্কার,
একাকী পথচলায় এটাই আমার প্রাপ্য পুরস্কার!
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়
যদি তুমি বলো তবে আমি আকাশ ছুঁতে পারি,
সুদূর আকাশে পাখির মত ডানা মেলে উড়ি!
আকাশ থেকে তোমার জন্য তারা এনে দেব,
তোমার জন্য ভালবাসা বিলিয়ে আমি যাব!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
পাহাড় অতিক্রম করতে পারি যদি তুমি বলো,
তোমার জন্য ভালবাসা মোর হবেনা টলোমলো!
পাহাড় খুঁড়ে তোমার জন্য আনব নীল-কমল!
এটাই আমার দৃঢ় পণ! হতে দেব না দুর্বল!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
যদি তুমি বলো সাগর পাড়ি দেব সাঁরতে!
তোমার হাসি আমার সকল কষ্ট দেয় উতরে।
সাগরের তল থেকে আমি এনে দেব মুক্তো,
আমি জেনেছি আমার জীবনে তুমি আছ যুক্ত!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
যদি তুমি বলো দেব পাড়ি বিশাল মহাশুন্য –
তোমার সঙ্গ আমার একাকীত্বকে করবে পূর্ণ!
পৃথিবীর সকল সুখ এনে দেব তোমার জন্য,
তোমায় ভালবেসে আমার জীবন হল ধন্য!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
কত ভালবাসি তোমায় যদি তুমি জানতে-
কখনও দেখেছ কি ক্ষুদ্র শিশির বিন্দু?
জ্বলজ্বল করে ওঠে প্রভাত রবির কিরণে!
আমার ভালবাসা তেমনি উজ্জ্বল হে বন্ধু!
হৃদয়ের দহন কি বুঝতে পারছো না তুমি?
আমায় ছেড়ে যদি যাও, কিভাবে বাঁচব আমি?
আমার দিকে তাকিয়ে একবার বল আমায়-
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়!
… … …
শুধু একবার বলো, ভালবাসি শুধুই তোমায়
কিছু ভুল
আমি মাঝে মাঝে কিছু ভুল করে ফেলি,
কিন্তু আমি জানি ওগুলো নয় সব মেকি!
হতে পারে এটা আমার অবহেলা-
কিংবা হতে পারে আমি বড় বোকা!
আমি কিন্তু মানুষটা নই এত খারাপ,
আমার লেখায় ঝরে পড়ে সব অনুতাপ!
মনের ভিতর থেকে তাড়িয়ে দিও না আমায়,
হারিয়ে যাব তাহলে আমি সুদূর নীলিমায়!
আমার তরে তুমি বন্ধ করে দিও না দুয়ার,
বাঁচবোনা আমি যদি অবহেলা পাই তোমার।
বাস্তব জীবন
এই মুহুর্তে আমি ভীষণ বিরক্ত,
কম্পিউটার ভাইরাস করছে উত্যক্ত!
পারছিনা কোন কাজ ঠিকমত করতে,
কিভাবে করবো তাও পারছিনা জানতে!
একবার ভাবি সবকিছু ধুয়ে মুছে ফেলি,
চাইলেও কি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি?
ঝামেলার সাথে যুক্ত আছে কম্পিউটার-
বলতেও পারছিনা, এটা কোন ব্যাপার!
আমাদের জীবনেও কত সমস্যা রয়ে গেছে,
সেগুলোর অনেকটাই অসমাপ্ত হয়ে আছে!
আমারা তো নই মানুষরুপী কোন যন্ত্র,
বিকল হলে ঠিক করে দেবে কোন মন্ত্র!
আমাদের আছে আবেগের ছটা আর ভালবাসা,
আরও আছে আমাদের জীবনের কত আশা!
সামাজিক জীব হিসাবে আছে কত দায়িত্ব,
ঘরে বাইরে সবখানেই আছে কাজের গুরুত্ব!
এর পরে আছে কত সমস্যা! এড়ানো নাহি যায়,
চালাক মানুষগুলো ঠিকিই তো এড়িয়ে চলে যায়!
খুব সহজেই তো আমার কম্পিউটার বদলে ফেলি,
কিন্তু জীবনের সমস্যাগুলো কিভাবে এড়িয়ে চলি?
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিত্কার করতে করতে
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে ব’লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে ব’লে, বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভূর বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করলো একটা কুকুর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতামাতার লাশের উপর।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে এক থুত্থুরে বুড়ো
উদাস দাওয়ায় ব’সে আছেন – তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে খুঁটি ধ’রে দগ্ধ ঘরের।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,
গাজী গাজী ব’লে নৌকা চালায় উদ্দান ঝড়ে
রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস
এখন পোকার দখলে
আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়ানো
সেই তেজী তরুণ যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হ’তে চলেছে —
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
মতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
আরও পড়ুন
নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের প্রুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়
ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে
শিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহন
তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,
অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই
ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।
আজন্ম আমার সাথী তুমি,
আমাকে স্বপ্নের সেতু দিয়েছিলে গ’ড়ে পলে পলে,
তাইতো ত্রিলোক আজ সুনন্দ জাহাজ হয়ে ভেড়ে
আমারই বন্দরে।
গলিত কাচের মতো জলে ফাত্না দেখে দেখে রঙিন মাছের
আশায় চিকন ছিপ ধরে গেছে বেলা। মনে পড়ে কাঁচি দিয়ে
নক্সা কাটা কাগজ এবং বোতলের ছিপি ফেলে
সেই কবে আমি হাসিখুশির খেয়া বেয়ে
পৌঁছে গেছি রত্নদীপে কম্পাস বিহনে।
তুমি আসো আমার ঘুমের বাগানেও
সে কোন্ বিশাল
গাছের কোটর থেকে লাফাতে লাফাতে নেমে আসো,
আসো কাঠবিড়ালির রূপে,
ফুল্ল মেঘমালা থেকে চকিতে ঝাঁপিয়ে পড়ো ঐরাবত সেজে,
সুদূর পাঠশালার একান্নটি সতত সবুজ
মুখের মতোই দুলে দুলে ওঠো তুমি
বার বার কিম্বা টুকটুকে লঙ্কা ঠোঁট টিয়ে হ’য়ে
কেমন দুলিয়ে দাও স্বপ্নময়তায় চৈতন্যের দাঁড়।
আমার এ অক্ষিগোলকের মধ্যে তুমি আঁখিতারা।
যুদ্ধের আগুণে,
মারীর তাণ্ডবে,
প্রবল বর্ষায়
কি অনাবৃষ্টিতে,
বারবনিতার
নূপুর নিক্কনে
বনিতার শান্ত
বাহুর বন্ধনে,
ঘৃণায় ধিক্কারে,
নৈরাজ্যের এলো-
ধাবাড়ি চিত্কারে,
সৃষ্টির ফাল্গুনে
হে আমার আঁখিতারা তুমি উন্মিলিত সর্বক্ষণজাগরণে।
তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে, কী থাকে আমার ?
উনিশ শো’ বাহন্নোর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী।
সে ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হ’লে আমার সত্তার দিকে
কতো নোংরা হাতের হিংশ্রতা ধেয়ে আসে।
এখন তোমাকে নিয়ে খেঙরার নোংরামি,
এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউড়ের পৌষমাস !
তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
আরও পড়ুন