হিন্দু ধর্মের বাণী

হিন্দু ধর্মের বাণী

★দান করা কর্তব্য এই চিন্তা করে,প্রতিদানের আশা না রেখে সত্পাত্রে,উপযুক্তস্থানে, সঠিকসময় যে দান করা হয় তাই সাত্ত্বিকউত্কৃষ্ট দান।
গীতা ১৭.২০ ।

★  ধনীদের উচিত দুঃস্থদের দান করা,তাদের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া উচিত কেননা ধনসম্পদ হল রথের চাকার মত,এখন যা এখানে পরমূহুর্তেই তা অন্যখানে গতিশীল হয়।
ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৫।

★  বেদ হচ্ছে সকল সত্য জ্ঞানের উত্স..
মহাকর্ষ শক্তি যেমন আবিস্কারের আগেও বিদ্যমান ছিল, তেমনি মানবজাতি যদি এটা ভুলেও যায় তারপরও এটা অপরিবর্তিতভাবে বিদ্যমান থাকবে।ঠিক তেমনি বেদ
-স্বামী বিবেকানন্দ

★  আমি যত মানুষেরর কথা জানি,তাঁদের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ সর্বাঙ্গ সুন্দর। তাঁর মধ্যে মস্তিষ্কের উৎকর্ষ, হৃদয়বত্তা ও কর্মনৈপুণ্য সমভাবে বিকশিত হয়েছিল।তিনি অনাসক্তির মহৎ দৃষ্টান্ত।তিনি অনেককে রাজা করেছেন,কিন্তু স্বয়ং সিংহাসনে আরোহণ করেননি।কৃষ্ণের মাহাত্ম্য এই যে, বেদের যত প্রচারক হয়েছেন,তাঁদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ। -স্বামী বিবেকানন্দ

★  *বৈদিক পঞ্চদেবতা

¤প্রথম দেবী মা । মা নো বধীঃ পিতরং মোত মাতরম্ যজুর্বেদ ১৬।১৫।
ভাষ্য : মাতার স্থান ঈশ্বরের পরেই তিনি জাগ্রত মূর্তিমতী দেবী ।সন্তানের কর্তব্য হলো মাকে শ্রদ্ধা ,ভক্তি ,সন্মান ,সেবা ও পূজা করা । মা দুঃখ-কষ্ট পান এমন কাজ করা কোন সন্তানের কতর্ব্য নয়।

¤দ্বিতীয় দেবতা পিতা । মাতার মত পিতাকেও সমান দৃষ্টিতে পূজা করা উচিত।

¤তৃতীয় দেবতা । শিক্ষক ও ধর্মগুরু আচার্য ।আচার্য উপনয়ন মানো ।অথর্ববেদ ১১.৫.৩ । ব্রহ্মচারিন মিচ্ছতে ।অথর্ববেদ ১১ .৫.১৭। ভাষ্য :আচার্য অথাত শিক্ষক ও ধর্ম গুরুকে শ্রদ্ধা ,ভক্তি ,সন্মান ও পূজা করবে।

আরো পড়ুন  চরিত্র নিয়ে উক্তি ও বানী

¤চতুর্থ দেবতা অতিথি । অতিথিগৃহানু প গচ্ছেত ।অথর্ববেদ ১৫.১৩.১১
ভাষ্য :যিনি বিদ্বান ,ধার্মিক , অপকট উপদেশক , যিনি সময় ও তিথি না জানিয়ে গৃহে আগমন করেন তাকে শ্রদ্ধা ,ভক্তি ও সন্মান করবে ।

¤পঞ্চম দেবী নিজের বিবাহিত স্ত্রী । স্ত্রীর পক্ষে স্বামী এবং স্বামীর পক্ষে স্ত্রী গুরু । পূজ্যা ভুষয়িত ব্যাশ্চ বহু কল্যাণমীপসুভীঃ । পূজ্যহি দেববত পতিঃ ।অথর্ব ৯.১০ । উপচর্যঃ স্ত্রীয়া সাধ্ব্যা সততং দেবব পতিম  ॥
ভাষ্য : স্ত্রীর পক্ষে স্বামী দেবতা এবং স্বামীর পক্ষে স্ত্রী দেবী । এই পাঁচজন বাস্তব জীবনে প্রত্যক্ষ দেব-দেবী ।

এই পঞ্চদেবতার পূজাকে বেদে পঞ্চায়তন পূজা বলে ।এই পাঁচ দেব-দেবী কে খাদ্য ,বস্ত্র ,পানীয় সেবা-শ্রদ্ধা ভক্তি করা সকল সনাতনীর কর্তব্য কর্ম ॥

★  কখনো ভেবো না আত্মার পক্ষে কোনো কিছু অসম্ভব…
এটা ভাবাই সবচেয়ে বড় অধর্ম …
পাপ যদি বলে কিছু থেকে থাকে তাহলে সেটা হল
নিজেকে বা অন্য কাউকে দুর্বল ভাবা…

★  মানুষ তখনই কলুষিত হয় তখন যখন সে মাংস ভক্ষন, সুরাপান ও জুয়া খেলায় লিপ্ত হয়। অথর্ববেদ ১.৬০.৭।

★  মানুষ তখনই কলুষিত হয় তখন যখন সে মাংস ভক্ষন, সুরাপান ও জুয়া খেলায় লিপ্ত হয়। অথর্ববেদ ১.৬০.৭।

★  সমগ্র মহাবিশ্ব ধ্বংস বা পুনঃসৃষ্টি হলেও বেদ সকল কালের জন্য প্রযোজ্য ও সর্বদা অপরিবর্তিত থাকবে…। ঋগবেদ ১০/১৯০/১-৩

★  “পরের কৃত ও অকৃত কর্মের প্রতি লক্ষ্য না রেখে নিজের কৃত ও অকৃত কর্মের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।”

আরো পড়ুন  উৎসব (Utsab) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)

গৌতম বুদ্ধ
বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা

★  অক্ষ্যৌ নৌ মধুসংকাশে অনীকং নৌ সমঞ্জনম্॥
অন্তঃ কৃণুষ্ব মাং হৃদি মন ইন্নৌ সহাসতি।
–অথর্ববেদ, ৭. ৩৬. ১

অনুবাদ
আমাদের আঁখি হোক মধুসিক্ত,
অপাঙ্গ হয় যেন প্রেমে লিপ্ত।
হৃদয়ের ব্যবধান হোক মুক্ত,
আমাদের মন হোক যোগযুক্ত।

★  অগ্নির্বৃত্রাণি জঙ্ঘনদ দ্রবিণস্যুর্বিপন্যয়া। সমিদ্ধঃ শুক্র আহূতঃ ॥

হে প্রাণসন্দীপ্ত, জ্যোতিষ্মান ,সমগ্র জগতে কীর্তিত,সকল প্রশংশায় প্রশংসিত,তুমি অন্যায়ের সংহার কর আর ন্যায়ের কর অধিষ্ঠান। -সামবেদ

★  অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায় যুবা পিতা স্বপা রুদ্র এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ ॥ ঋগবেদ ৫.৬০.৫

বঙ্গানুবাদ : কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন,কেউ ক্ষত্রিয়,কেউ বৈশ্য,কেউ শুদ্র।তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়।ইহারা ভাই ভাই । সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে ।ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি।পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।

★  অভয়ং নঃ করত্যন্তরিক্ষ–
মভয়ং দ্যাবাপৃথিবী উভে ইমে।
অভয়ং পশ্চাদভয়ং পুরস্তা-
দুত্তরাদধরাদভয়ং নো অস্তু॥
অভয়ং মিত্রাদভয়মমিত্রা-
দভয়ং জ্ঞাতাদভয়ং পরোক্ষাৎ।
অভয়ং নক্তমভয়ং দিবা নঃ
সর্বা আশা মম মিত্রং ভবন্তু॥
–অথর্ববেদ, ১৯. ১৫. ৫-৬

অনুবাদ
অন্তরীক্ষ আমাদের হউক অভয়,
দ্যুলোক ভূলোক উভে হউক অভয়।
পশ্চাৎ অভয় হোক সম্মুখ অভয়,
ঊর্ধ্ব নিম্ন আমাদের হউক অভয়।
বান্ধব অভয় হোক শত্রুও অভয়,
জ্ঞাত যা অভয় হোক অজ্ঞাত অভয়।
রজনী অভয় হোক দিবস অভয়,
সর্বদিক আমাদের মিত্র যেন হয়।

★  অহমস্মি সহমানাথো ত্বমসি সাসহিঃ।………..
মামনু প্র তে মনঃ……..
পথা বারিব ধাবতু॥
–অথর্ববেদ,৩. ১৮. ৫-৬

আরো পড়ুন  প্রচলিত বাংলা ছড়া

অনুবাদ
যেমন আমি
সর্বসহা শক্তিমতী,
তেমনি হও
সর্বসহ আমার প্রতি।
আপন পথে
যেমন হয় জলের গতি,
তোমার মন
আসুক ধেয়ে আমার প্রতি।

★  আপ্যায়মানো অমৃতায় সোম দিবি শ্রবঃসুত্তমানি ধিস্ব।। যজুর্বেদ ১২.১১৩
অনুবাদ- হৃদয়ে সবসময় মহত্ ও দিব্য চিন্তা ধারন কর।খাদ্য যেমন তোমায় বাঁচিয়ে রাখে,এগুলো তোমার আত্মাকে তেমনি সজীব রাখবে।

Bangla Quote